টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে তিন যুবককে আটকে রেখে নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুই সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ভূঞাপুর পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) পাওয়া ফুটেজে শ্রমিকদল নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী হিসেবে পরিচিত সিয়াম এবং সংবাদকর্মী আরিফুজ্জামান তপুর উপস্থিতি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ফুটেজের বিষয়বস্তু ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ধনবাড়ী উপজেলার বালাসূতি গ্রামের মাহিন ও তার দুই বন্ধু নিহাদ ও শাকিল ভূঞাপুরের পূর্ব ভূঞাপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। সেখানে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বাদী মাহিনের অভিযোগ, এ সময় সংবাদকর্মী হাদী চকদার তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেন। পরে শ্রমিকদল নেতা জাহাঙ্গীর তার লোকজন নিয়ে সেখানে যান। তাঁর ডাকে দুই সংবাদকর্মী হাদী ও তপু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তাদের ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পুকুরপাড় এলাকার রেখা কমপ্লেক্সে অবস্থিত জাহাঙ্গীরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে তিন যুবককে কয়েক দফায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর কার্যালয়ে এসে পরিস্থিতি দেখে চলে যান। পরদিন তাদের একজন করে এটিএম বুথে নিয়ে টাকা তুলতে বাধ্য করা হয়। এভাবে ২ লাখ টাকা, নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও ৩১ হাজার টাকা এবং তিনটি আইফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। নগদে পাঠানো টাকা জাহাঙ্গীরের সহযোগী সিয়ামের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে ওই তিন যুবককে ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন বাদী।
মাহিন বলেন, জাহাঙ্গীর তাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করান। পরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা দিতে বাধ্য হন তারা। গোবিন্দাসীর এক সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় বলেন, ঘটনার রাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে মাতব্বর হিসেবে তিনি সালিশ করেছিলেন। তবে টাকা ও মুঠোফোন নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। সাংবাদিকেরা কী করেছেন, তা তাদের বিষয়।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু বলেন, বিষয়টি তিনি ফেসবুকে জেনেছেন। জাহাঙ্গীর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ, ১০ অক্টোবর মাহিন বাদী হয়ে হাদী চকদার ও আরিফুজ্জামান তপুর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন। পরে দুই সাংবাদিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে এজাহারে হাদী চকদার এক নম্বর আসামি হলেও ঘটনার দায় আরিফুজ্জামান তপুর ওপর চাপানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। মামলার এজাহারে নাম না থাকা শ্রমিকদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এখনো গ্রেপ্তার হননি বলে জানা গেছে।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে জাহাঙ্গীর আলমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









