পিরোজপুরের নেছারাবাদে যুবদল নেতা মো. মারুফ তালুকদারকে (৩২) মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদারের ভাই ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাবার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে মারুফের আট বছর বয়সী মেয়ে মাইশা মনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার স্বরূপকাঠী সদর ইউনিয়নের রাহুতকাঠী গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন মারুফ। তিনি আগামী কমিটিতে উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী।
সংবাদ সম্মেলনে মারুফ অভিযোগ করেন, নাছির উদ্দীন তালুকদারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ২৩ অক্টোবর রাতে বাড়ির সামনে তাকে পথরোধ করে নাছিরের ভাই ও স্বজনেরা মারধর করেন। তার চিৎকারে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় তিনি নেছারাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
মারুফের দাবি, সম্প্রতি গ্রামের এক ব্যক্তিকে টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে নাছির ১৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। টিউবওয়েল না পেয়ে ওই ব্যক্তি বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় বলাবলি করছিলেন। এ নিয়ে নাছির তাকে দোষারোপ করছিলেন। এ ছাড়া অতীতে তার বাবাকে মারধর করে মামলা দিয়ে বাড়িছাড়া করার অভিযোগও নাছিরের বিরুদ্ধে তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে মাইশা মনি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে নাছিরকে তার বাবাকে মারধরের জন্য দায়ী করে ঘটনার বিচার দাবি করে। মারুফের বাবা ও রাহুতকাঠী গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সাহেব আলীও অতীতে মারধর ও মামলা দিয়ে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাছির উদ্দীন তালুকদার। তিনি বলেন, মারুফ তার বাড়ির পাশের বাসিন্দা এবং তাকে নিয়ে বাজারে বাজে কথা বলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার ভাই বাড়ির সামনে বসে মারুফকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় তাদের মধ্যে সামান্য হাতাহাতি হয়। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও দলের একটি পক্ষ উসকানি দিয়ে ঘটনাটি বড় করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন নাছির।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় মারুফ তালুকদার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









