পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ পশুর হাটে সরকারি নির্ধারিত টোলের চেয়ে ছাগলপ্রতি ১০০ টাকা বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ছাগল বিক্রেতাদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। হাটে টোলের তালিকাসংবলিত সাইনবোর্ড না থাকা এবং রসিদে আদায় করা টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করার অভিযোগও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার বসে এ হাট। দেবীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা এখানে ছাগল কেনাবেচা করতে আসেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, প্রতি হাটে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি ছাগল কেনাবেচা হয়।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৪৩৩ বাংলা সনের অনুমোদিত টোলের তালিকা অনুযায়ী, প্রতিটি ছাগলের জন্য শুধু ক্রেতার কাছ থেকে ১৫০ টাকা আদায়ের বিধান রয়েছে। তবে কালীগঞ্জ হাটে ক্রেতাদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দেবীডুবা ইউনিয়নের মহলদারপাড়া থেকে ছাগল কিনতে আসা মহসিন বলেন, ‘১৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি খাসি ছাগল কিনেছি। হাটে লেখাই খরচ নিয়েছে ২৫০ টাকা। তবে রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা ছিল না।’
পার্শ্ববর্তী চেংঠি এলাকার বাসিন্দা মোহন্ত রায়ও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনেছি। আমার কাছে ২৫০ টাকা লেখাই নিয়েছে।’
অন্যদিকে, ছাগল বিক্রি করতে আসা হাফিজুল, আলামিনসহ কয়েকজন বিক্রেতা তাঁদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে এ অর্থ আদায়কে ‘চাঁদা’ বলা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাটসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, পাইকারেরা বেশি ছাগল কিনলে তাঁদের কাছ থেকে ছাগলপ্রতি ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
প্রতি হাটে ১০০ থেকে ১৫০টি ছাগল কেনাবেচা এবং ছাগলপ্রতি ১০০ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হিসাব করলে, সপ্তাহে দুই দিন হাট বসার হিসাবে মাসে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় হতে পারে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩৩ বাংলা সনে আয়কর ও ভ্যাটসহ ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কালীগঞ্জ হাট ইজারা দেওয়া হয়। ইজারা পান উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আইয়ুব আলী। ২ অক্টোবর তার মৃত্যু হলে বর্তমানে তার জামাতা এরশাদ হাটটি পরিচালনা করছেন।
ইজারার শর্ত অনুযায়ী, হাটের একাধিক স্থানে নির্ধারিত টোলের তালিকাসংবলিত সাইনবোর্ড প্রদর্শনের নিয়ম রয়েছে। তবে সরেজমিনে এমন কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। রসিদে আদায় করা টাকার পরিমাণও উল্লেখ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা এরশাদ বলেন, ‘আমরা ছাগলের ক্রেতার কাছে ২৫০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছে ২০ টাকা চাঁদা নিচ্ছি।’ সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে এই রেটেই তো নেওয়া হয়। আর চাঁদা যেটা তোলা হয়, সেটা মসজিদে দেওয়া হয়।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









