উদ্ববগঞ্জ বাজার থেকে পানাম সড়ক পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত দু'একবার মেরামত করা হলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয় না। ফলে এ সড়কে চলাচলকারী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় বাতাসে ভেসে থাকা প্রচুর ধূলিকণা গাছের পাতা, মুকুলে জমা হয়ে স্তর তৈরি করে, যা গাছকে ধূসর ও প্রাণহীন করে তোলছে। এতে রাস্তার পাশের আম ও লিচু বাগানে ফলন বিপর্যয় আশঙ্কা করছেন বাগানিরা।
উদ্ববগঞ্জ বাজার থেকে পানাম পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ১.২ কিলোমিটার। উদ্ববগঞ্জ বাজার সড়কের কিছু অংশ ভালো থাকলেও কিছুদূর এগোলেই বিপরীত চিত্র চোখে পড়ে। সড়কের স্থানে স্থানে গর্ত। আস্তর, কংক্রিট উঠে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা হাসপাতাল, সোনারগাঁ থানা, খাদ্যগুদাম, সাবরেজিষ্ট্রার অফিস সহ সরকারি সকল দপ্তরে যাওয়ার এ রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় চরম ভোগান্তীতে আছে চলাচলরত যাত্রী ও পথচারিরা। এছাড়াও এ রাস্তার পাশে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কিন্ডারগার্টেন ও মাদরাসা থাকায় ধুলোবালিতে চলাচল করে শিক্ষার্থীরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এ সড়কের পাশের ব্যবসায়ী ইকরামূল হক বলেন, বিভিন্ন কম্পানীর অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলার কারনে পৌরসভার রাস্তাটি চলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তৎকালীন ইউএনও রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও তা রক্ষা করেননি।
আব্দুল কুদ্দুস নামের এক যাত্রী বলেন, রাস্তার অবস্থা এত খারাপ থাকে যে গাড়িতে আসতে ভয় লাগে। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে শরিরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নড়েচড়ে ওঠে। হাড় ও কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভূত হয়।
অটোচালক মিহিন বলেন, ভাঙা রাস্তায় চলতে গিয়ে অটোরিকশা বিকল হয়ে যায়। আর গর্ত পার হওয়ার সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। যাত্রীরা চালককে বকাঝকা করেন।
উদ্ববগঞ্জ বাজারের কাছে এ সড়কে একটি ভ্যানের চাকা ভেঙে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। মাথায় ড্রাম নিয়ে রাস্তা পার হওয়া শ্রমিক বাশার বলেন, ভ্যানটি গর্তে পড়ে চাকা মচকে পড়ে আছে। চালক চলে গেছে। কেউ এটা সরাচ্ছেও না। তাই যানজট নিরসনে নিজ দায়িত্বে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছি।
এ পথে নিয়মিত চলাচল করেন মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পরপর দেখি কোনো রকমে জায়গায় জায়গায় মেরামত করে, তারপর আবার সেগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।
পুরো রাস্তা এবড়োখেবড়ো। কিছু অংশে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। এখানকার বাসিন্দা জুয়েল গাজী বলেন, এ সড়কে ঢালাই উঠে গেছে আরও আগে। বৃষ্টি হলে রাস্তা হয় কাদার পুকুর। শুকনায় ধুলায় অন্ধকার।
সোনারগাঁ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক জানান, ধুলো ক্লোরোফিলের উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। পাতার উপর ধুলোর আস্তরণ সূর্যের আলো পৌঁছাতে বাধা দেয়, ফলে গাছের খাদ্য তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। ধুলো জমে পাতার স্টোমাটা (ছিদ্র) বন্ধ হয়ে যায়, যা শ্বাস-প্রশ্বাস ও বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে। ধুলোর কারণে পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া এবং কোষের মৃত্যু হতে পারে, যা উদ্ভিদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়।
সোনারগাঁ পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, রাস্তাটি অতিদ্রুত সংস্কারের প্রক্রিয়া কার্যক্রম অব্যাহত আছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









