চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন শান্তিপাড়ায় মাদক কারবার ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
প্রায় ৪০ বছর আগে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা বস্তিটি উচ্ছেদ, মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ দখল থেকে রেলওয়ের জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
সম্প্রতি সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এ দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপাড়ায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের কার্যক্রম চলছে। বাইরে থেকেও অনেকে সেখানে মাদক সেবন করতে আসেন। মাদক কারবারের প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্থানীয়দের কেউ কেউ হামলার শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবার মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। এতে আশপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি শান্তিপাড়ায় অভিযান চালাতে গিয়ে ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শান্তিপাড়া উচ্ছেদের দাবিতে গত মঙ্গলবার বিকেলে রহনপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন আমবাজার চত্বরে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভা থেকে মাদক কারবার ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
রহনপুর আম আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মাদক, ছিনতাই এবং অসামাজিক কার্যকলাপবিরোধী কমিটির গোমস্তাপুর উপজেলা আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মারধর এবং ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন। অর্থের প্রভাবেও কেউ কেউ পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে বস্তিটি উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তার।
শান্তিপাড়া উচ্ছেদের দাবির পাশাপাশি রহনপুর রেলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টিও সামনে এনেছেন স্থানীয় আন্দোলনকারীরা।
তবে পুলিশ বলছে, এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ইউএনওর গাড়িতে হামলা এবং ব্যবসায়ীদের মারধরের ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
ওসি আরও বলেন, রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা বস্তি উচ্ছেদের বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, শান্তিপাড়ায় উজলেফা, রেখা, আসমা, সাজ্জাদ, আলেয়া, রোকেয়া, আয়না ও বালু সাত্তারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি মাদক কারবারে জড়িত বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের অনেককে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছেন। স্থানীয় লোকজন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পর তাদের অনেকে আত্মগোপনে গেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মো. হাসান তারেক বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালে এসব বস্তি উচ্ছেদ করতে গিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তারা হামলার মুখে পড়েন। এ কারণে তাদের ফিরে আসতে হয়েছিল। বস্তি উচ্ছেদ করতে হলে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









