সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলায় আহত হয়েছেন দুই সাংবাদিক। তাদের মাথায় স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে আঘাত করা হয়।
আহতরা হলেন সিলেট ভিউ টোয়েন্টিফোরডটকমের প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার ও শ্যামল সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক রেজা রুবেল। তাদের মাথায় একাধিক সেলাই লেগেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনার প্রতিবাদে সিলেট নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকরা। তারা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সাংবাদিক নেতারা জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।অ ন্যদিকে, হামলার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা হামলার শিকার হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রোগীর স্বজনদের ওপর হামলারও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।
বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিদ হোসেন বলেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি দেবে।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়েও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মঈনুল জাকির বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবু জাফর মো. খালেদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









