দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের চরম সংকট বিরাজ করছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি ফার্মেসিতেও ভ্যাকসিন না পাওয়ায় কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন পশুর কামড়ে আহত রোগী ও তাদের পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, পশুর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে অধিকাংশ সময়ই ভ্যাকসিন না থাকার কথা জানানো হয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই বিভিন্ন ফার্মেসিতে খোঁজ করলেও সেখানেও ভ্যাকসিন মিলছে না।
এক ভুক্তভোগী অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তানকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানানো হয় ভ্যাকসিন নেই। পরে কয়েকটি ফার্মেসিতেও খোঁজ করি, কিন্তু কোথাও পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভীষণ আতঙ্কে আছি।”
আরেকজন বলেন, “জলাতঙ্ক যে কতটা ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী রোগ, তা সবাই জানে। কিন্তু সময়মতো ভ্যাকসিন না পেলে জীবন নিয়ে ভয় থেকেই যায়।”
ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন। খানসামা বাজারের মদিনা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী আবু তাহের মো. শাহরিয়ার জানান, গত ২ মাস দিন ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কোনো সরবরাহ নেই। কোম্পানি থেকেই সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই অনেক মানুষ ভ্যাকসিনের খোঁজে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন অনিয়মিত। কখনো অল্প পরিমাণে ভ্যাকসিন এলেও তা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পশুর কামড়ে আহত রোগীরা হাসপাতালে এসেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে দিনাজপুর শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ফার্মেসির ওপর নির্ভর করছেন, যেখানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ হলেও এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য—যদি কামড়ের পর সময়মতো ভ্যাকসিন গ্রহণ করা যায়। বিশেষ করে প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন সংকট চলতে থাকায় খানসামা উপজেলায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি এক বছর আগে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত একবারের জন্যও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাননি। বিষয়টি নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
অন্যদিকে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন কেনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত খানসামা উপজেলায় পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এ সংকট অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
ছবির ক্যাপশন: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









