সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আত্রাই উপজেলার এবং একজন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। এর আগে প্রথম দফায় আত্রাইয়ের সাতজনসহ নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল। দুই দফায় আত্রাইয়ের ১১ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহতদের মরদেহ পৌঁছায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মরদেহ গ্রহণের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল অ্যাম্বুলেন্সগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছায়।
নিহতরা হলেন আত্রাই উপজেলার হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ, সাগর ও সজিব এবং নওগাঁ সদর উপজেলার শাহিন।
নিহত হাসিবুল হাসান শুভ পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে যান। সেখানে কাজ না পেয়ে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পরিবার আরও পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে। তবে স্বপ্ন পূরণের আগেই কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরতে হলো তাকে। প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার বাদ আসর জানাজা শেষে নিহতদের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো দেখতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী ভিড় করেন।
নিহতদের পরিবারকে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, উইয়েস অনার্স বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে দ্রুত তিন লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের পর সৌদি আরবে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা প্রবাসীদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকেও প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
শোকাহত পরিবারগুলো সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। প্রথম ধাপে গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। বাকি সাতজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তের পর শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৬ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। তাদের মধ্যে চারজন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









