জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের গণরায় মেনে নিতে বিএনপি সরকারকে সময় দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান। তিনি বলেছেন, ‘‘সংসদে আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণ করতে হবে। অন্যথায় রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি সরকারকেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিণতি বরণ করতে হবে।’’ জনগণের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে সাত দফা দাবি এক দফায় পরিণত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে যশোরের মুড়লী মোড়ে ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ প্রধান বলেন, ‘‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা যদি জনগণের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করেন, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করেন, তাহলে মজলুম জনতা বসে থাকবে না। প্রয়োজনে সাত দফা দাবি এক দফায় রূপান্তর করা হবে। সেই আন্দোলনের জন্য জনগণ প্রস্তুত রয়েছে।’’
বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘‘সেই পর্যন্ত বিএনপি সরকারকে সময় দেওয়া হলো। ভালোই ভালোই সংসদে সমাধান করুন। না হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে আপনাদেরও ২৪-এর ৫ আগস্টের ভাগ্য বরণ করতে হবে।’’ তবে সরকারকে কত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।
আগামী দিনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাগপার এই নেতা বলেন, ‘‘লং মার্চগুলো শেষ হওয়ার পর ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক আসবে। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের গণরায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না।’’
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে রাশেদ প্রধান বলেন, ‘‘পাকিস্তান আমলে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মনে করেছিল তারা কখনো ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবে না। কিন্তু একসময় দলটির পতন হয়েছে। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগও ভেবেছিল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকবে। ১৯৭৫ সালে তাদের পতন হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও ক্ষমতা ছাড়তে চাননি, শেষ পর্যন্ত তাকেও বিদায় নিতে হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আন্দোলনের মুখে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও পদত্যাগ করতে হয়েছিল।’’
তিনি বলেন, ‘‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। দুপুরের খাবারও খেতে পারেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতার স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো দলেরই অহংকার করা উচিত নয়। জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করলে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না।’’
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান এবং চাঁদাবাজদের উদ্দেশে স্লোগান দেওয়ার কথা বলেন।
১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চের অংশ হিসেবে যশোরের মুড়লী মোড়ে এ পথসভার আয়োজন করা হয়। লংমার্চের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









