গণভোটের রায় মেনে না নিলে এবং দেশে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ঢাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ‘‘যারা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, ইতিহাসে তারা প্রতারক ও গাদ্দার হিসেবে চিহ্নিত হবে।’’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মেলালে এবং আবার শেখ হাসিনার মতো হয়ে ওঠার চেষ্টা করলে এই সরকারের জন্য আরও ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।’’
বক্তব্যের শুরুতে সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা আজকের এই পথসভা নিয়েছি, লং মার্চে এসেছি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার জন্য। বিচার চাই, বিচার চাই। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই।”
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, “আজকে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী যে বিএনপি সরকার এসেছে, তারা শহীদদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ইতিহাসের পাতায় তারেক রহমান ও বিএনপি সরকার প্রতারক এবং গাদ্দারের ভূমিকায় থাকবে। ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মতামত দিয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মতামত দিয়েছে। এই বাংলাদেশে যেন আর কখনো খুন, গুম, আয়নাঘর আর ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়, সে জন্য মানুষ মতামত দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকার সেই গণভোটের জনরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিএনপিকে সাবধান করছি, যারা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তারা দলের সঙ্গে মিশে যাবে। এই বাংলার জমিনে শহীদদের রক্তের ইনসাফ বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, “এই গণভোটের জনরায়, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিএনপি সরকারের সারা দেশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, রাহাজানি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে আজকে বাংলাদেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেই সংকটের বিরুদ্ধে আমরা লংমার্চে নেমেছি।”
বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমাদের নেতা, মানবিক নেতা, আগামীর বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক ডা. শফিকুর রহমান যদি এক দফার ডাক দেন, আপনারা কি ঢাকায় যেতে প্রস্তুত আছেন?” এ সময় উপস্থিত জনতা সমর্থন জানায়।
সাদিক কায়েম বলেন, “সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই বাংলার জমিনে আবু সাঈদ, শহীদ আলী রায়হান ও শহীদ ওসমান হাদির ইনসাফের বাংলাদেশ আমরা বিনির্মাণ করব, ইনশাআল্লাহ। এই বাংলার জমিনে জুলাই গণহত্যার বিচার হবে। এই বাংলার জমিনে সকল মানুষের অধিকার আমরা নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, “আমরা অনুরোধ করব, এখনো সময় আছে, এখনো সময় আছে। অনতিবিলম্বে গণভোটের জনরায় মেনে নিন। একই সঙ্গে সারা দেশে নির্লজ্জ দলীয়করণের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিএনপি সরকার যে সংকটগুলো তৈরি করেছে, সেই সংকটগুলো দূর করার জন্য একসঙ্গে কাজ করুন। না হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হবে, ইনশাআল্লাহ।”
বক্তব্যের শেষ দিকে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি আবারও আন্দোলনে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। সাদিক কায়েম বলেন, “আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আগামীর যে বাংলাদেশ হবে, সেই বাংলাদেশ হবে শহীদ আবু সাঈদের বাংলাদেশ, আগামীর যে বাংলাদেশ হবে, সেই বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









