বিভক্ত বিশ্বে সাধক লালন সাঁইয়ের দর্শন আশার বাতিঘর এবং ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের এক আত্মিক ও সাংস্কৃতিক সেতু বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাধক লালন সাঁইয়ের ১৭৬তম তিরোধান বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘লালন সন্ধ্যা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বর্তমান বিশ্বে সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভাজন ও নেতিবাচকতার বিপরীতে লালন ফকিরের দর্শন মানবজাতির জন্য অনন্য দিশা হতে পারে। ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো হলেও লালনের বাণী আজও সূর্যের আলোর মতো চিরনতুন এবং মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক ভিত্তির সঙ্গে জড়িত।
নিজের কূটনৈতিক ও জনজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, করোনাকালে কোভিড ভাইরাস যেমন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে আক্রান্ত করেছিল, তেমনি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টানের রক্ত আলাদা করা সম্ভব নয়। লালন ফকির বহু আগেই উপলব্ধি করেছিলেন, মানুষের বাহ্যিক পার্থক্যের চেয়ে মানবিক পরিচয়ই বড়।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, লালনের অসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও সুর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। লালন কেবল সংগীতের উৎস নন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অন্যতম আত্মিক ও সাংস্কৃতিক সেতুও।
বর্তমান সমাজকে মহাসমুদ্রে পথ হারানো জাহাজের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, দিশেহারা মানবজাতির জন্য লালনের দর্শন একটি দিকনির্দেশক বাতিঘর।
লালনকে শুধু কোনো একটি সন্ধ্যার গান বা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার অসাম্প্রদায়িকতা ও ঐক্যের চেতনাকে দৈনন্দিন জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ভারতের হাইকমিশনার।
অনুষ্ঠানে প্রথমে সংগীত পরিবেশন করেন ওস্তাদ শফি মন্ডল ও নাসরীন আক্তার বিউটি। এ ছাড়া অচীন পাখি সংগীত একাডেমি গান পরিবেশন করে। লালন ব্যান্ড পরিবেশন করে লালনের জনপ্রিয় পাঁচটি গান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









