সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়টি এখন ভোগান্তি পরিণত হয়েছে। ১৯০৮ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই ১১৮ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনেই প্রতিদিন সম্পন্ন হচ্ছে মানুষের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নিবন্ধন।
তবে সংস্কারহীনতা আর চরম অবহেলার কারণে যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সাথে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে লাখ লাখ মানুষের ভূমিস্বত্বের মূল দলিল, বালাম বই ও ঐতিহাসিক নথিপত্র।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন গোয়াইনঘাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি। শতবর্ষী এই অফিস ভবনটির দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। জোড়া তালি দেওয়া টিনের ছাদ। দেওয়ালের বিভিন্ন অংশ থেকে আস্তর ও প্লাস্টার খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জরাজীর্ণ টিনের চাল ছিদ্র হয়ে পানি সরাসরি এসে পড়ে অফিসের টেবিল, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও বালাম বইয়ের ওপর।
ভবনটিতে জায়গা সংকট থাকায় দূর থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের পোহাতে হচ্ছে ব্যাপক ভোগান্তি। বিশাল এই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে জমি কেনাবেচা ও জরুরি প্রয়োজনে আসেন। সামান্য বৃষ্টিতেই অফিসের ভেতরে তৈরি হয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা, আর অফিসের বাইরে কাদা-মাটির কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। কার্যালয়ে আসা অনেকে জানান, তারা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে কাজ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ পারভেজ উদ্বেগের সাথে জানান, ভবনটি আসলেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো বালাম বই ও রেকর্ডগুলো রক্ষার সাময়িক চেষ্টা করছি। তবে লাখো মানুষের নথিপত্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে একটি নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
বিষয়টি ইতিমধ্যেই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং নতুন ভবনের জন্য আবেদন করেছি। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি নথিপত্র রক্ষা ও জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত এই জরাজীর্ণ ভবনের জায়গায় একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য যথাযথ মন্ত্রণালয়ে দ্রুত সুপারিশ পাঠানো হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









