পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন ভাইয়ের তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ২ নম্বর আলীপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম আলীপুরা এলাকায় সুলিজ বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে মৃধা বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম মৃধার বসতঘর থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে পাশের দুই ভাই নুরু মৃধা ও ইউনুস মৃধার বসতঘরে তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিন ভাইয়ের বসতঘর ও ঘরের ভেতরে থাকা মালামাল পুড়ে যায়।
গলাচিপা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে তিনটি বসতঘর ও ঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে ইব্রাহিম, নুরু ও ইউনুস মৃধার পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ইব্রাহিম মৃধা বলেন, “আমার সম্বল বলতে ছিল ঘর আর কিছু জমিজমার দলিল ও মামলার কাগজপত্র। আজ অগ্নিকাণ্ডে সব পুড়ে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই নেই। কীভাবে কী হয়ে গেল, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’’
গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার জাকির হোসেন জানান, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের মৃধা বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সংবাদকর্মীদের বলেন, “দশমিনা উপজেলার ২ নম্বর আলীপুরা ইউনিয়নের মৃধা বাড়িতে এসে দেখেছি, তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ঘরের ব্যবহার্য জিনিসপত্র, আসবাবপত্র, এমনকি নগদ টাকাও পুড়ে গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’’
তিনি বলেন, ‘‘খবর পেয়ে আমি ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাময়িকভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করব ‘’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









