কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা বেলতলা মহাশ্মশানে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যক্তির মরদেহ সমাধিস্থ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছে মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটি। এ ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কমিটির নেতারা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় আল্লারদর্গা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির নেতারা দাবি করেন, গত ৩০ অক্টোবর তাজপুর গ্রামের যুগল দাসের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ সমাধিস্থ করতে কমিটির পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। বরং নিয়ম অনুযায়ী সমাধির ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আল্লারদর্গা বেলতলা মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিধান চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি জানান, যুগল দাসের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর কমিটির সভাপতি শ্রী ভীম কুমার ঘোষ, সহসভাপতি শ্রী ভবেশ পাল, গোবিন্দ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক বিধান চন্দ্র বিশ্বাসের মধ্যে আলোচনা করে সমাধির ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় তাজপুর গ্রামের শ্যাম দাস সম্মতি জানিয়ে ভবেশ পাল ও গোবিন্দ সরকারকে সঙ্গে নিয়ে শ্মশানের চাবি নিয়ে যান এবং সমাধির কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
কমিটির দাবি, ঘটনার দুই দিন পর ২ নভেম্বর একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে কমিটির সভাপতি ও সংগঠনের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন নেতারা। তাঁরা বলেন, কমিটি কখনোই কোনো একক সদস্যের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয় না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মহাশ্মশান কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (রেজুলেশন নম্বর-০১, তারিখ ৩ জুলাই ২০২৬) শ্মশানে যেসব মরদেহ দাহ করা হবে, সেসব পরিবারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না। তবে জায়গার স্বল্পতার কারণে দাহ না করে সমাধিস্থ করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে শ্মশানের শরিক হতে এককালীন ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কমিটির দাবি, এই অর্থ মহাশ্মশানের জায়গা ভরাট, অসচ্ছল পরিবারকে সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সম্প্রতি আল্লারদর্গা বাজারের পাহারাদার সাধনের স্ত্রী মাধবী লতা বিশ্বাস (বুড়ি) মারা গেলে তাঁকে অসচ্ছল পরিবার বিবেচনায় কমিটির পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে নিয়মিত সহযোগিতা করা হয় বলেও দাবি করেন তাঁরা।
কমিটির নেতারা বলেন, অনুদান কাউকে জোরপূর্বক দিতে বাধ্য করা হয় না। কোনো পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলে কমিটির পক্ষ থেকে সামাজিকভাবে সহযোগিতা করে সমাধির ব্যবস্থা করা হয়।
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে নেতারা বলেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করায় তাঁরা মর্মাহত। তাঁরা সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরার অনুরোধ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেলতলা মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি শ্রী ভীম কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিধান চন্দ্র বিশ্বাস, শ্রী ব্রজেন কুমার বিশ্বাস, সর্বজনীন শ্রী শ্রী শিবদরগা মন্দিরের সভাপতি অমিত কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র সরকার, সর্বজনীন বেলতলা মহাশ্মশান কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিপ্র কুমার বিশ্বাস, নরেন পাল, শ্রী গোবিন্দ সরকার, পংকজ দেবনাথ, অনিমেষ চন্দ্র ঘোষ, সুবাস চন্দ্র সরকার ও শ্রী ভবেশ পালসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক সদস্য। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









