ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। এ দিনের ইবাদত ও আমলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পুরুষদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ হলেও নারীদের জন্য তা ফরজ করা হয়নি। তবে নারীরা চাইলে মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ইমামের সঙ্গে দুই রাকাত জুমার ফরজ নামাজ আদায় করলে আলাদাভাবে জোহরের নামাজ পড়তে হয় না।
অন্যদিকে, যেসব নারী বাসায় অবস্থান করেন, তারা শুক্রবারে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করবেন। জুমার দিন মসজিদে যেতে না পারলেও নারীরা বিভিন্ন ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে দিনটির বরকত লাভের চেষ্টা করতে পারেন।
শুক্রবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত। এদিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। তাই নারীরা সুবিধাজনক সময়ে সুরাটি পড়তে পারেন। আরবি পড়তে অসুবিধা হলে বিশুদ্ধ উচ্চারণ শেখার পাশাপাশি অর্থ ও ব্যাখ্যা পড়েও কোরআনের শিক্ষা অনুধাবন করতে পারেন।
এ ছাড়া জুমার দিন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম আমল। দরুদ পাঠের পাশাপাশি তাসবিহ, তাহলিল, জিকির ও ইস্তিগফার করা যেতে পারে। নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে দোয়া করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে শুক্রবারের আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে অনেক আলেম গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও সবার কল্যাণ কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেতে পারে।
জুমার দিন নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অতিরিক্ত নামাজ ফরজ না হলেও নিয়মিত ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি এসব নেক আমল করার সুযোগ রয়েছে। ঘরের কাজ ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কিছুটা সময় ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর স্মরণে ব্যয় করলে দিনটি আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









