ক্ষমতার সিংহাসন যতটা শক্তিশালী মনে হয়, জনসমর্থনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়লে সেই ক্ষমতাই ততটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার প্রতিফলন দেখা গেল। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা শুধু সিনেট নয়, প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুসারে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪টি, বিপরীতে রিপাবলিকানদের ৪৪টি।
অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২৩১টি আসন পেয়েছে, যেখানে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ১৪১টি; বেশ কয়েকটি আসনের ফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া রিপাবলিকানদের জন্য এই ফল কেবল নির্বাচনী পরাজয় নয়; বরং ট্রাম্পের নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার প্রতি মার্কিন ভোটারদের একটি কঠোর বার্তা।
নির্বাচনের ফল বুঝতে হলে প্রথমেই দেখতে হবে মার্কিন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা। রাজনীতির বড় বড় প্রতিশ্রুতির চেয়ে একজন সাধারণ নাগরিকের কাছে মুদি দোকানের বিল, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ কাটেনি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) নির্বাচনী ভোটার জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে। একই জরিপে দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার নিয়েও ব্যাপক অসন্তোষ উঠে এসেছে। অর্থাৎ, ভোটাররা কেবল বিরোধী দলের প্রতি সমর্থন জানাতে ভোট দেননি; বরং নিজেদের জীবনযাত্রায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন না আসার জন্য ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। গণতন্ত্রে নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই- ক্ষমতার মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত মানুষের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই হয়।
অর্থনৈতিক অসন্তোষের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান যুদ্ধও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যুদ্ধের অষ্টম মাসে এসে মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ প্রশ্ন তুলেছেন, এই সংঘাতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য আর কত দিন তাঁদের বহন করতে হবে।
এপি-এনওআরসি নির্বাচনী জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার অর্থনীতি অথবা জীবনযাত্রার ব্যয়কে নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করেছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটারের কাছে স্বাস্থ্যসেবা ও ইরান যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক ও কৌশলগত স্বার্থের যুক্তি সামনে আনলেও সাধারণ মানুষের কাছে যুদ্ধের সাফল্য নির্ধারিত হয়েছে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব দিয়ে। এমনকি নির্বাচনের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে যুদ্ধকে চিহ্নিত করেছেন। ফলে স্পষ্ট হয়েছে, পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত যখন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাপে ফেলে, তখন তার রাজনৈতিক মূল্যও ক্ষমতাসীনদের দিতে হয়।
এই নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে শুধু অর্থনীতি কিংবা যুদ্ধ নয়, ট্রাম্পের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার, কঠোর বক্তব্য এবং নিজের প্রতি আনুগত্যকে রাজনৈতিক যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। কিন্তু নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে, প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সব প্রার্থীর জন্য বিজয়ের নিশ্চয়তা তৈরি করতে পারেনি।
এপি’র ভোটার জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকানদের মনোনীত কয়েকজন প্রার্থীর অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং ট্রাম্পের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য নিয়ে ভোটারদের মধ্যে সংশয় ছিল। এমনকি দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নও নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভোটাররা প্রার্থীর যোগ্যতা, চরিত্র ও নীতিগত অবস্থানকেও গুরুত্ব দেন। ফলে, কোনো নেতার প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘ মেয়াদে জনগণের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব নয়।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য ঐতিহ্যগত রিপাবলিকান ঘাঁটিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। টেক্সাসে জেমস তালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে ১৯৮৮ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন। কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিলটনের জয় প্রায় এক শতাব্দীর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে; রাজ্যটি সর্বশেষ ১৯৩২ সালে একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত করেছিল। এ ছাড়া আইওয়া, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের পরাজয় ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাবর্তনকে শক্তিশালী করেছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প যেসব অঙ্গরাজ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, সেসব জায়গাতেও এবার ডেমোক্র্যাটরা সাফল্য পেয়েছে। এর অর্থ, রিপাবলিকানদের প্রচলিত ভোটব্যাংকে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বাস্তবতাও ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। এটি ভবিষ্যতের মার্কিন রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন প্রাতিষ্ঠানিক বাধা অনেক বেড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেস দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত- সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ। নতুন কংগ্রেস ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করলে ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন, বাজেট আলোচনা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, গুরুত্বপূর্ণ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে।
ফলে, ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ মনোনয়নগুলো কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের তদন্ত কমিটিগুলো প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, ব্যয় এবং নীতিনির্ধারণ নিয়ে অনুসন্ধান করতে পারবে। বিশেষ করে, ইরান যুদ্ধের ব্যয়, নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহার, সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বিলুপ্ত হয় না; ট্রাম্পের হাতে এখনো নির্বাহী ক্ষমতা ও ভেটো প্রয়োগের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। ফলে, আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে রাজনৈতিক দর-কষাকষি এবং মতবিরোধ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের সম্ভাবনাও রাজনৈতিক আলোচনায় আসতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাটরা চাইলে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। তবে, অভিশংসন এবং ক্ষমতাচ্যুতি এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে, প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অভিশংসনের অভিযোগ অনুমোদিত হতে পারে; কিন্তু প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে অপসারণ করতে সিনেটে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে, ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির সুযোগ বাড়ালেও ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। বরং অতিরিক্ত দলীয় সংঘাত সৃষ্টি হলে তা মার্কিন রাজনীতিকে আরো বিভক্ত করতে পারে। তাই ডেমোক্র্যাটদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজনৈতিক প্রতিশোধের পরিবর্তে তথ্যপ্রমাণভিত্তিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুসারে, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ট্রাম্প ইতোমধ্যে দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ায় ২০২৮ সালে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ তাঁর নেই। তবে, এর অর্থ এই নয় যে, তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব শেষ হয়ে যাবে। রিপাবলিকান দলের একটি বড় অংশের ওপর তাঁর প্রভাব, দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা এবং নিজের সমর্থকগোষ্ঠীকে সংগঠিত করার ক্ষমতা তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ধরে রাখতে পারে।
অন্যদিকে, এবারের পরাজয় দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্বের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতাদের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ- তাঁরা কি ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করবেন, নাকি দলকে নতুন নীতিগত ও সাংগঠনিক পথে এগিয়ে নেবেন? এই দ্বন্দ্ব আগামী দুই বছরে রিপাবলিকান রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের বিজয়কেও জনগণের নিঃশর্ত সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এপি’র ভোটার জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে প্রায় অর্ধেক ভোটারের; অর্থাৎ, তাঁদের বিজয়ের পেছনে রিপাবলিকানদের প্রতি অসন্তোষও বড় ভূমিকা রেখেছে। ভোটাররা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো, যুদ্ধের বিষয়ে জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেছেন। ফলে, নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমোক্র্যাটদের জন্য যেমন রাজনৈতিক সাফল্য, তেমনি বড় দায়িত্বও।
তাঁরা যদি কেবল ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখেন এবং সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হন, তাহলে এই জনসমর্থনও দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতার সুযোগে জয় পাওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু জনগণের আস্থা ধরে রাখতে প্রয়োজন কার্যকর নীতি ও দৃশ্যমান পরিবর্তন।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি তাঁর প্রেসিডেন্ট পদ কেড়ে নেয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথকে কঠিন করেছে এবং প্রশাসনের ওপর জবাবদিহির চাপ বাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাব, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষ- এই সবকিছু সম্মিলিতভাবে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।
এখন ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ- জনগণের অসন্তোষের কারণগুলো উপলব্ধি করে নীতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা, অথবা বিরোধী কংগ্রেসের সঙ্গে সংঘাত বাড়িয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে দীর্ঘায়িত করা। তাঁর সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর ইতিহাসে কীভাবে মূল্যায়িত হবে। কারণ, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে বসা যায় নির্বাচনের মাধ্যমে, কিন্তু সেই ক্ষমতার প্রতি মানুষের আস্থা অর্জন করতে হয় কাজের মাধ্যমে।
লেখক : কবি ও কলামিস্ট


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









