বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, ‘‘যারা জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণ দেশের পরাজিত শক্তিকে কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবে না। জাতীয় ঐক্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে দেবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’
শনিবার (৭ নভেম্বর) শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, ‘‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখে ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর সিপাহি-জনতা তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল। তৎকালীন পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অনিরাপদ হয়ে পড়েছে বলে সিপাহি-জনতা উপলব্ধি করেছিল। দায়িত্ব পাওয়ার পর জিয়াউর রহমান বুঝেছিলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় বন্ধুর ছদ্মবেশে দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, তারাই দেশের জন্য বিপদের কারণ। তাই আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবমুক্ত থেকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, আধিপত্যবাদী শক্তি তা মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। এ দেশের মানুষ কখনো কোনো বহিঃশক্তির কাছে মাথা নত করেনি। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই দেশবিরোধী শক্তিকে বিদায় করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই ঐক্যের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।’’
অধ্যাপক নার্গিস বলেন, ‘‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যারা একসঙ্গে আন্দোলন করেছেন, তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। আওয়ামী লীগের লোকজন আত্মগোপনে থেকেও প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই বিষধর সাপকে আর গর্ত থেকে মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না। জিয়াউর রহমানের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির আদর্শ ধারণ করে সব মত ও পথের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু জাফর, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শিকদার সালাউদ্দিন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর। সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।
সমাবেশ শেষে অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহাক, সাবেক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মিজানুর রহমান খান, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম ও নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









