রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টার এখন ‘ভূতের বাড়ি’

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টার এখন ‘ভূতের বাড়ি’

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসের বিএস কোয়ার্টার।

এক সময় ভোরের আলো ফোটার আগেই কৃষকেরা ছুটে যেতেন ইউনিয়ন ব্লক সুপারভাইজার (বিএস) কোয়ার্টারের দিকে। কারও হাতে থাকত ধানের পাতা, কারও বা সবজির চারা। একটু পরেই দরজা খুলে বের হতেন কৃষি কর্মকর্তা—হাসিমুখে শুনতেন সমস্যা, দিতেন পরামর্শ। সে সময়টুকু ছিল গ্রামের কৃষিজীবনের ভরসা।

কিন্তু সময় বদলেছে। আজ সেই কোয়ার্টারগুলো দাঁড়িয়ে আছে নীরব, এখন যেন পরিত্যক্ত এক ‘ভূতের বাড়ি’। দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে থাকা বিএস কোয়ার্টারগুলো এখন যেন কেবল স্মৃতির ভার বহন করছে।

উপজেলা পরিষদের পাশের আলোকঝাড়ী ইউনিয়নে দুটি, টংগুয়ার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নে একটি আর পাকেরহাটে আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নে একটি—চারটি একতলা ভবনই একই পরিণতির সাক্ষী। ছাদ ও দেয়ালের সিমেন্ট খসে পড়েছে, ভেতরে জমেছে ঝোপঝাড়। প্রাচীরঘেরা চত্বরে গজিয়ে উঠেছে বড় বড় গাছ। মরিচা ধরা দরজা, ভাঙা জানালা আর খসে পড়া দেয়ালের চটা যেন বলে দেয়—এখানে আর কেউ থাকে না।

এই কোয়ার্টারগুলোর ইতিহাসও কম দীর্ঘ নয়। ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকার এগুলো সিড গোডাউন হিসেবে নির্মাণ করেছিল। পরে সেই কর্মসূচি বন্ধ হলে, ১৯৮০ সালের দিকে ভবনগুলো সংস্কার করে ইউনিয়ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—কৃষকের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দেওয়া। মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় থাকতেন কর্মকর্তারা। তখন ব্লক সুপারভাইজার নামে পরিচিত এই পদটি এখন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) নামে পরিচিত।

স্থানীয় বাসিন্দা ওবাইদুর রহমানের স্মৃতিতে এখনো ভাসে সেই দিনগুলো। তিনি বলেন, ছোটবেলায় কোয়ার্টারে বাকী সাহেব, হান্নান সাহেবদের বসবাস দেখেছেন। অবসর নেওয়ার পর আর কেউ আসেনি। তাঁর বিশ্বাস, ভবনগুলো সংস্কার করা হলে কৃষকেরা আবারও আধুনিক চাষাবাদ ও কৃষি বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ পেতে পারেন।

কৃষক আব্দুল সালামের কথায় শোনা যায় আক্ষেপের সুর। তাঁর ভাষায়, “ওই সময় বিএস কোয়ার্টার থাকায় সরাসরি অফিসারের পরামর্শ পেতাম। এখন আর সে সুযোগ নেই। কৃষিকাজে সমস্যায় পড়তে হয়।” তাঁর মতো অনেক কৃষকই চান—কোয়ার্টারগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, কোয়ার্টারগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় কেউ ব্যবহার করছে না। বিষয়টি নিয়ে নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, এই চিত্র শুধু খানসামার নয়—সারা দেশেই একই অবস্থা। এটি স্থানীয়ভাবে নয়, কেন্দ্রীয়ভাবে সমাধানের বিষয়। সরকারি সম্পদের হিসেব প্রতি মাসে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি নেই।

নীরব কোয়ার্টারগুলোর ভেতর আজ আর কৃষকের পায়ের শব্দ নেই। আছে শুধু ঝরা দেয়াল আর অবহেলার চিহ্ন। তবু স্থানীয়দের চোখে একটাই প্রত্যাশা—একদিন হয়তো আবার সেই দরজাগুলো খুলবে, ফিরে আসবে কৃষি সেবার প্রাণচাঞ্চল্য।

 

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.