বাগেরহাটের শরণখোলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩০) নামের এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (১মার্চ) রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামে। জামায়াতের সংঘবদ্ধ নেতাকর্মীদের হামলায় সে নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে ঐ গ্রামে নির্বাচন বা রাজনৈতিক কারনে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলায় সাগর নামের আরো এক যুবদল কর্মী আহত হয়। তাকেও শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শরণখোলা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে শাহজাহান ,তানজের,খলিল ও শাহীন নামের চার জনকে গ্রেফতার করেছে। বাগেরহাটের এডিশনাল এসপি আশরাফ উল্লাহ রাতেই শরণখোলায় ছুটে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মালয়শিয়া প্রবাসী ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম ভোট দেয়ার জন্য ভোটের কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। সে ওই গ্রামের বিএনপি নেতা মজিদ হাওলাদারের ছেলে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন জানান, বাগেরহাট- ৪ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী জয়ী হওয়ার পর থেকেই শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছে। সুন্দরবন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী ও সোনাতলা গ্রামে ভোটের দিন থেকে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে এই ওয়ার্ডের বিএনপি'র অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনার রেশ ধরে শনিবার রাতে ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ জামায়াতের কর্মীরা তার গতিরোধ করে এবং বেদম মারপিট করে। ওই ছাত্রদল নেতা মাসুম মোবাইল ফোনে তার উপর হামলার ঘটনা জানিয়ে তাকে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানায় বলে জানান তিনি।
এসময় তার অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে শরণখোলা থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আহত অবস্থায় আরিফুল ইসলাম মাসুমকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কিছু সময় পরেই তিনি মারা যান। মুহূর্তেই নিহতের স্বজনরা ও দলীয় নেতাকর্মীরা শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভীড় জমান ও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
উপজেলা যুবদল নেতা এম মাসুদ হোসেন বলেন, নিহত মাসুম তার আত্মীয়। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি'র ধানের শীষে একটি ভোট দেয়ার জন্য ভোটের কয়েকদিন আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও স্থানীয় জামায়াতের হামলায় আজকে তার লাশ হতে হলো বলে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আল আমিন খান বলেন, ভোটের দিন থেকে শরণখোলায় একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছে। জামায়াত ইসলামীর নেতারা তাদের কর্মীদের নিবৃত্ত করলে আজ মাসুমকে লাশ হতে হতো না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
নিহত মাসুমকে বিএনপি পরিবারের একজন পরীক্ষিত কর্মী দাবি করে তার উপর রাতের আঁধারে ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটন। তিনি ও অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
সাউথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেন তাদের দলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচন বা রাজনৈতিক কারনে জামায়াতের সাথে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. নাইম জানান, শারীরিকভাবে আহত হিসাবে রাত ১১.৩০ মিনিটে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২.২০ মিনিটে তার মৃত্যু ঘটে। তার শরীরে আঘাতের কিছু চিহ্ন আছে বলে জানান তিনি।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শামিনুল হক জানান,এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জন কে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









