বরিশাল নগরীতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় উন্নয়ন নয়, মশা। দিন-রাতের বিভাজন মানছে না এ উপদ্রব। সন্ধ্যা নামলেই যেন নগরজুড়ে শুরু হয় অদৃশ্য এক আতঙ্কের বিস্তার। কোটি টাকার মশক নিধন বাজেট থাকলেও বাস্তবে স্বস্তি মিলছে না, এমন অভিযোগ নগরবাসীর।
বাংলা বাজার এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, মেয়র আসে, মেয়র যায়। সরকার আসে, সরকার যায়। প্রশাসক আসে, প্রশাসক যায় কিন্তু মশা যায় না। এত বাজেট হয়, কিন্তু আমরা তো কোনো পরিবর্তন দেখি না।
তার এই বক্তব্য যেন নগরবাসীর দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশারই প্রতিধ্বনি।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ড্রেন ভাঙাচোরা, কোথাও আবার বছরের পর বছর সংস্কারহীন। বৃষ্টির পানি ও নোংরা আবর্জনা জমে থেকে সৃষ্টি করছে মশার আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্র। নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান না থাকায় অনেকেই খোলা জায়গায় ময়লা ফেলছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
রূপাতলী সোহরাব হাউজিং, মাওলানা ভাসাণী সড়ক, নবগ্রাম রোড, লালা দিঘীর পাড়, কাউনিয়া, বিএম কলেজ, বগুড়া রোড, নতুন বাজার,হাতেম আলী চৌমাথা, রসুলপুর, পলাশপুর ও ত্রিশ গোডাউন এলাকায় অলি-গলিতে জমে থাকা পানি ও দুর্গন্ধ ছড়ানো ড্রেনের চিত্র এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।
হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা জুম্মান জানান, সম্প্রতি তার আট বছরের সন্তান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এখন আমরা সারাদিন মশারি টানিয়ে রাখি। বাচ্চারা মশারির ভেতরেই পড়াশোনা করে। এটা কি স্বাভাবিক জীবন? প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বাজার রোড এলাকার ব্যবসায়ী মো.কবির হাওলাদার বলেন, সন্ধ্যার পর দোকানে বসা যায় না। কয়েল, স্প্রে, ইলেকট্রিক ব্যাটসহ সবই ব্যবহার করছি। কিন্তু মশা যেন আরও বাড়ছে।
কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা ওহিদুজ্জামান বলেন, আমরা নিয়মিত কর দিচ্ছি। কিন্তু মৌলিক সমস্যার সমাধান পাচ্ছি না। বাইরে বসে দুই মিনিট গল্প করার উপায় নেই মশার জন্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু বাসাবাড়ি নয়, হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকেও মশার উপদ্রব বেড়েছে। রোগী ও স্বজনদের অনেক সময় মশারি ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, মশার উপদ্রব কমাতে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন তিনটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২ লিটার ও ৫০ লিটার ধারণক্ষমতার মেশিন ব্যবহার করে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
তবে নগরবাসীর প্রশ্ন, যদি নিয়মিত কার্যক্রম চলে তবে পরিস্থিতি কেন দিন দিন খারাপ হচ্ছে? শুধু ফগিং নয়, ড্রেনেজ সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই স্থায়ী সমাধান দিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বরিশাল নগরীর মানুষের প্রত্যাশা একটাই মশামুক্ত স্বস্তির শহর। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কথার বাইরে গিয়ে কত দ্রুত বাস্তবসম্মত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









