সাতক্ষীরার লবনাক্ত শ্যামনগর উপজেলায় বোরো আবাদের প্রতি কৃষকের আগ্রহ দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। প্রতিবছর বোরো আবাদ উপকূলের লবনাক্ত এলাকা শ্যামনগরে শতাধিক হেক্টর বাড়ছে। বর্তমানে বোরো ধান চাষ ও পরিচর্যায় কৃষকরা সময় কাটাচ্ছেন। কৃষকের প্রধান ফসল আমন ঘরে উঠানোর সাথে সাথেই শুকনা মৌসুমের ধান বোরো আবাদের প্রতি কৃষকরা ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন বিশ্বাস জানান, চলতি বোরো মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭১৫ হেক্টর। কিন্ত এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বোরো চাষ হয়েছে ২৮৬৫ হেক্টর। গত বছর উপজেলায় বোরো চাষ হয় ২৭১৫ হেক্টর, ২০২৪ সালে বোরো চাষ ২৩১৫ হেক্টর, ২০২৩ সালে বোরো চাষ হয় ২১৯০ হেক্টর। লবনাক্ত এলাকা শ্যামনগর উপজেলা হলেও লবন সহিষ্ণু ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ বেশী।
উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউপির ধানখালী গ্রামের বোরো চাষি সুপদ বৈদ্য বলেন, তিন বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। গতবছর একই জমিতে বোরো ধানের চাষ করে ভাল ফসল পেয়েছেন।
জেলেখালী গ্রামের বোরো চাষি নিরঞ্জন মন্ডল জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর যাবত বোরো ধান চাষ করে আসছেন এবং ফলনও পাচ্ছেন ভাল। বোরো চাষের প্রধান অন্তরায় মিষ্টি পানির অভাব। এলাকায় যে খাল রয়েছে সেখানে লবন পানি ভরা থাকে, লিজ দেওয়া থাকে। আবার পলি পড়ে ভরাট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৈখালী গ্রামের বোরো চাষি লুৎফর রহমান বলেন, দুই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে নিজস্ব পুকুরের পানি ও বৃষ্টির পানিই ভরসা। এমন অনেক চাষি আছেন নিজস্ব সংরক্ষিত পানি ফুরিয়ে গেলে, তারা আকাশ পানে চেয়ে থাকেন। এ জন্য তারা খালগুলোতে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের দাবী জানান।
শ্যামনগর ইউপির বোরো চাষি শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় আমন ফসলের পর বোরো ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের খালগুলো পুনঃখনন করা, মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করা ও বোরো চাষিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম জানান, যেভাবে শ্যামনগর উপজেলায় বোরো ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়ে চলেছে, সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিবছর। উপজেলায় কৃষকরা লবন সহিষ্ণু জাত বিনা-১০, ব্রি-৬৭ ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করে থাকেন বলে জানা যায়।
উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, উপজেলায় ১২০টির অধিক খাল রয়েছে তা পুনঃখনন করে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করা হলে কৃষকরা শুকনো মৌসুমে বোরো ধান চাষসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করতে পারবেন। এখানে মিষ্টি পানির সংকট রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উপজেলায় লবনাক্তার প্রকোপ থাকলেও লবন সহিষ্ণু ধান চাষ করে কৃষকরা সফল হচ্ছেন বলে তিনি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









