নতুন রূপে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। সেই রূপের ফুটিয়ে তুলেছে আগুনরাঙা পলাশ ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজ গাছের শাখায় যেন আগুন জ্বলছে। বসন্তের হাওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফুটে উঠেছে লাল টুকটুকে পলাশ, যা পথচারীদের নজর কাড়ছে।
বাংলাদেশের প্রকৃতি ঋতুভেদে ভিন্ন ভিন্ন রূপে ধরা দেয়। গ্রীষ্মে সোনালু, বর্ষায় জারুল, শীতে কাঞ্চন আর বসন্তে পলাশ—প্রতিটি ঋতু যেন নিজস্ব রঙে সাজিয়ে তোলে চারপাশ। সাধারণত হলুদ, লাল ও লালচে কমলা—এই তিন রঙে পলাশ ফুল দেখা যায়। তবে আগুনরাঙা লালচে কমলা পলাশই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। ফাগুন ও চৈত্র মাসে গাছ ভরে ওঠে ফুলে। এ সময় গাছ প্রায় পাতাশূন্য গাছে ফুলের সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পলাশ গাছে ফুটে উঠেছে অসংখ্য ফুল। পথচারীরা হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্য। অনেকেই মুঠোফোনে ধারণ করছেন রঙিন মুহূর্ত। আবার সকালবেলায় গাছের নিচে ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে নিতে দেখা যায় স্থানীয়দের।
কমলগঞ্জের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রায় ছয় থেকে সাত বছর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পলাশ গাছ লাগানো হয়েছিল। গত দুই বছর ধরে গাছগুলোতে ফুল ফুটছে। গরমের সময় গাছের নিচে বসে থাকা যায়।
পলাশ মাঝারি আকারের একটি পর্ণমোচী বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম বিউটিয়া মোনোসপারমা। গাছটি সাধারণত প্রায় ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয় এবং ফুলের দৈর্ঘ্য দুই থেকে চার সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই এই গাছ দেখা যায়। এছাড়া ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াতেও এর বিস্তৃতি রয়েছে।
কমলগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলী মর্তুজা বলেন, “একসময় দেশের গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনা—সবখানেই পলাশ ও শিমুল গাছ দেখা যেত। কিন্তু নগরায়ণ ও আধুনিকতার চাপে গাছ কেটে ফেলা, বীজ বপন না করা এবং পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের অভাবে এসব গাছ এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।”
তিনি আরো বলেন, একটি এলাকার প্রকৃত সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের প্রভাবে প্রতিটি ঋতুই ধীরে ধীরে তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। তাই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ফলজ ও বনজ গাছের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধক গাছও বেশি করে রোপণ করা জরুরি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









