ঈদ যতই কাছে আসছে, ততই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দর্জির দোকানগুলোতে ব্যস্ততা বেড়ে চলেছে। যেন দম ফেলার সময় নেই। রমজান মাসের মধ্যভাগে এসে অনেক দর্জি নতুন অর্ডার নিতে আগ্রহী নন।
দর্জির দোকানগুলোতে নারী ও পুরুষ ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, গতবারের তুলনায় এবার প্রতিটি পোষাক তৈরীর মজুরি বাড়ানো হয়েছে। পোষাকের ধরণ অনুযায়ী মজুরি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দর্জিরা জানান, উপকরণের মূল্য ও কর্মচারীর মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পোষাক তৈরীর মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উপজেলা সদরের দর্জি পাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রেতারা কাপড় দোকান থেকে পছন্দের কাপড় কিনে দ্রুত দর্জির দোকানে এসে অর্ডার দিচ্ছেন। কেউ মাপ নিচ্ছেন, কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ সিরিয়ালে অপেক্ষা করছেন। অনেকে অনুরোধ করছেন অর্ডার দ্রুত দেওয়ার জন্য।
উপজেলা সদরের এক দর্জি দোকানে ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, “অনুরোধ করতে হল শেষ মুহূর্তে পোষাক তৈরীর অর্ডার নিতে।”
ডাকবাংলা মোড়ে রয়েল টেইলার্সের মালিক আতিকুর রহমান কচি বলেন, “সাধারণত ১৫ রমজানের পর আর নতুন অর্ডার নেওয়া হয় না। রমজানে রোজা রেখে অনেক কর্মচারী মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করছেন। দিন-রাত সমান তালে কাজ চলছে। অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগ করেছি।” ফ্যাশান টেইলার্সের মালিক কানু বিশ্বাসও একই কথা জানিয়েছেন।
মাদ্রাসার ছাত্র রবিউল ইসলাম বলেন, “পাঞ্জাবী ও পায়জামা তৈরীর মজুরি নেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ৪০০ টাকা ও ২৫০ টাকা। যা গতবারের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি।” রহিমা বেগম বলেন, “ডাবল থ্রিপিচ তৈরীর মজুরি এইবার ৫০০ টাকা, গতবার ছিল ৪০০ টাকা।”
রয়েল টেইলার্সের মালিক আতিকুর রহমান জানান, ঈদে বেশি অর্ডার এসেছে পাঞ্জাবী, পায়জামা ও মেয়েদের সালোয়ার কামিজ, থ্রিপিচ ও বোরকা। দশজন কারিগর কাজ করছেন। তিনি মজুরি বিবরণ দিয়েছেন: পুরুষদের পাঞ্জাবী: ৪০০ টাকা, পায়জামা: ২৫০ টাকা, মেয়েদের সালোয়ার সেট: ৩৫০ টাকা, ডাবল থ্রিপিচ: ৫০০ টাকা, বোরকা: ৪০০ টাকা, জজেট থ্রিপিচ: ৫০০ টাকা, ছেলেদের প্যান্ট: ৪০০ টাকা, ছেলেদের শার্ট: ৩৫০ টাকা
ফ্যাশান টেইলার্সের মালিক কানু বিশ্বাস ও রোজ টেইলার্সের মালিক ফজলু বলেন, “দর্জির কাজে কারিগরের সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদে অর্ডার বেশি হলেও চাহিদা অনুযায়ী কারিগর পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অর্ডার কম নিতে হচ্ছে। যারা আছে তাদের অতিরিক্ত মজুরি দিতে হচ্ছে এবং সময়ও দিতে হচ্ছে।”
দর্জি পাড়ায় এখন শুধু সেলাই মেশিনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কারিগরদের কথা বলার সময়ও কম। দর্জির মালিকরা দাবি করেন, উপকরণের মূল্য ও কারিগরের মজুরি বৃদ্ধি পেলেও মজুরি বাড়েনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









