অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মৌলভীবাজারের পাহাড়, টিলা ও সমতল ভূমির আম বাগানগুলো এবার মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে। ইতোমধ্যে অনেক গাছে মুকুল থেকে ছোট ছোট আমের গুটি ধরতে শুরু করেছে। ফলে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছেন জেলার আমচাষিরা। তবে প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
জেলার পাহাড়ি টিলা ও সমতল এলাকায় গড়ে ওঠা সারি সারি আমগাছ এখন মুকুলে সেজেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা প্রায় ২৮১টি আম বাগানে আগেভাগেই মুকুল দেখা দিয়েছে। অনেক বাগানে ইতোমধ্যে মুকুল থেকে আমের গুটি বা ‘মটর’ ধরতে শুরু করেছে। এতে করে ভালো ফলনের প্রত্যাশায় বাগানের পরিচর্যা, সেচ ও গাছের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
মৌলভীবাজারে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি ও অমৃতসাগরসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় আম্রপালি জাতের আম। জেলার সাতটি উপজেলায় আম চাষ হলেও মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলার পাহাড় ও সমতল জমিতে আম বাগানের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আকবরপুর এলাকার আমচাষি আব্দুল মান্নান জানান, তার বাগানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে বিভিন্ন জাতের আমগাছ রয়েছে। এ বছর প্রায় প্রতিটি গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন তিনি। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলার আরও অনেক আম বাগান মালিক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মৌলভীবাজারে প্রায় ২ হাজার ২৩৯ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১২ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ভালো ফলন পেতে মটরশুঁটির আকারের আম হওয়ার সময় ফ্যানবেলারেট গ্রুপের ওষুধ প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে সাতদিন পরপর স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় আমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









