চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাত থেকে যৌথ বাহিনীর এই অভিযান শুরু হয়।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব এবং জেলা প্রশাসনের একটি বৃহৎ দল মিলে অভিযান চালানো হয়েছে। এবার আমরা সফল হয়েছি বলে মনে করছি। এই জায়গার উপর আমাদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, জঙ্গল সলিমপুরে এখন থেকে পুলিশ ও র্যাবের দুইটি ক্যাম্প থাকবে। এছাড়া পরবর্তীতে পুলিশ যেন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, এজন্য বিভাগীয় কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে এলাকার যাতায়াত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজতর করা যায়। “এখানে আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল জায়গার উপর রাষ্ট্রীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা, যা আমরা সফলভাবে করতে পেরেছি,” বলেন ডিআইজি।
অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তবে নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকার কারণে এখন পর্যন্ত ঠিক কত পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা আমরা জানতে পারিনি।”
কতজনকে আটক করা হয়েছে প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। কিছু সংখ্যক এখনও আটক হয়নি। তারা হয়তো পালিয়ে থাকতে পারে। তল্লাশি চলমান রয়েছে।”
ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। “প্রায় ২০০৩ সাল থেকে একটি চক্র সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে এখানে অবৈধভাবে জমির কাগজ তৈরি, জমি দখল ও হস্তান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এলাকায় প্রবেশ করতে ভয় পেত।”
এর আগে চারবার এই এলাকায় অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। এবার পঞ্চমবারের মতো যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে সফল হয়েছে। অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন। ডিআইজি বলেন, “এটি অনেক বড় এলাকা। পুরো এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম এখনো চলমান। কোথাও কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। আরও এক থেকে দুই ঘণ্টা অভিযান চালানো হবে।”
অভিযান শেষে তিনি বলেন, “এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আবার মাথাচাড়া দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নজরদারি থাকবে।”
এদিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে এসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানান, জঙ্গল সলিমপুরে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। “দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ায় এখন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে,” তিনি বলেন।
ড. জিয়াউদ্দীন আরও বলেন, “ভবিষ্যতে এই এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকার যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতায় সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন সরকার নিয়মিতভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “সলিমপুর এলাকা শহরের খুব কাছে থাকা সত্ত্বেও এতদিন প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা ছিল। সম্প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার কারণে প্রশাসনের মনোযোগ সেদিকে ছিল। নির্বাচন শেষে সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এলাকায় সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









