পিরোজপুরের নেছারাবাদে আলোচিত গোপাল চন্দ্র দাস (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সারেংকাঠি গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তার কোনো ছাড় নেই। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।” এ সময় দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারে সফল হওয়ায় তিনি পুলিশ প্রশাসন ও র্যাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এর আগে গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের সন্ধ্যা নদীর পাড়ে একটি ইটভাটার পাশে গোপাল চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, বরিশালের কাশিপুর এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে ও পেশায় ট্রাকচালক গোপাল চন্দ্র দাসকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেলে করে নেছারাবাদের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের সন্ধ্যা নদীর পাড়ে একটি ইটভাটার পাশে নিয়ে যায় রাজু ও সম্রাট। পরে তাকে হত্যা করে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরে নেছারাবাদ থানা পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে ওই দিন বিকেলে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মানিক চন্দ্র দাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, নিহত ব্যক্তি ও গ্রেপ্তারকৃতরা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল। নারী ও মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গোপাল চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। তবে হত্যার পর নিহতের মাথা ও হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নদীতে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পুলিশ র্যাবের সহায়তা চাইলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা।
উল্লেখ্য, ইটভাটায় প্রবেশপথে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন ইটভাটায় প্রবেশ করে। কিছু সময় পর একই মোটরসাইকেলে রাজু ও সম্রাট সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। পরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে র্যাব সদস্যরা শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর চৌমাথা এলাকার গণপাড়া থেকে সম্রাটকে এবং রাত ৮টার দিকে বরিশাল নগরীর স্টিমারঘাট এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
তবে ঘটনার ৪ দিন অতিক্রম করলেও নিহত গোপাল চন্দ্র দাসের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারকৃত সম্রাট হত্যার দায় স্বীকার করলেও অন্য আসামি রাজুর আদালত কর্তৃক রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় তাকে নেছারাবাদ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









