শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

পুণ্য স্নানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল বারুণীর উৎসব

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:২১ পিএম

আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:২১ পিএম

পুণ্য স্নানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল বারুণীর উৎসব

পুণ্য স্নান ও নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার  দিন ব্যাপী (১৭ মার্চ) অনুষ্ঠিত হল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সোনার মোড় নামক স্থানে ইতিহাস খ্যাত যমুনা ও ইছামতি নদীর সংযোগস্থলে ঐতিহ্যবাহী প্রায় একশত পঞ্চাশ বছরের উর্দ্ধের বারুণী উৎসব।

মঙ্গলবার বারুণীর উৎসব উপলক্ষে খুব সকাল থেকে শ্যামনগর সহ বিভিন্ন এলাকার পুণ্যার্থীরা মৃত যমুনা কূলে এসে উৎসবে অংশ গ্রহণ করেন। এ সময় দেখা যায় যাদের মানত ছিল তাদের অনেকে গঙ্গা দেবীর মূর্তি নিয়ে মন্ডপস্থলে পুণ্যের আসায় আসেন।এ সময় বহু ভক্তবৃন্দ বা পুণ্যার্থীরা যমুনায় পুণ্য স্নান করেন।

উৎসবের পুরোহিত জানান, চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশ তিথিতে বারুণীর উৎসবে বিভিন্ন এলাকার ব্রাক্ষ্মণ সমাজের অনেক ব্যক্তি এসে পূজা অর্চনা করেন।এ বছর বারুণী স্নানের শুভ মুহুর্ত ছিল সকাল ৮.০৭মিনিটের মধ্যে। তিনি বলেন বারুণী স্নানকে গঙ্গা স্নানের সমতুল্য মনে করা হয়। কথিত আছে এই তিথিতে গঙ্গা দেবী বারুণী নামে পরিচিতি হয়ে নদীর জলে অবতীর্ণ হন। এই স্নানটি মূলত সনাতনীদের একটি পুণ্য স্নান হিসাবে ধরা হয়। বিভিন্ন পুণ্যার্থীগণ মাসিক, বাৎসরিক শ্রাদ্ধকার্য ব্রাক্ষ্মণের মাধ্যমে সমাধান করে থাকেন। এছাড়া গোকিস্তী সহ অন্যান্য ধর্মীয় কার্য সম্পাদন করেন।

বারুণীর উৎসব আয়োজক কমিটির প্রধান বরুণ কুমার ঘোষ বলেন এ বছর ১৫০ তম বারুণীর উৎসব চলছে। তিনি উৎসবের স্থলে পাকা বেদী নির্মানের জন্য ও যমুনা নদী পুনঃখননের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান। পুরোহিত হরিপদ মুখার্জী, বিবেকানন্দ মুখার্জী সহ অন্যান্যরা বলেন ঐতিহ্যবাহী বারুণীর উৎসব আয়োজক বংশীপুর ঘোষ পরিবার। তাদের পূর্ব পুরুষ থেকে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এ বারুণীর মেলায় অতীতের ন্যায় দেশীয় মৃত শিল্প, বাঁশ ও বেত শিল্প, কামার শিল্প, তালপাতার তৈরী হস্ত শিল্পের উপকরণ সহ অন্যান্য দেশীয় শিল্পের পণ্যের সমাগম ঘটেছে। তবে অতীতের ন্যায় বায়োস্কোপ, পুতুলনাচ, পক্ষকাল ব্যাপী যাত্রা, সিনেমা সহ অন্যান্য বিনোদন মূলক উৎসব এখন আর পালিত হয় না। মেলায় আগত দর্শনার্থী ৫০ বছর বয়স্ক রবীন্দ্র নাথ মন্ডল, আয়না রানী বলেন আগে এ বারুণীর উৎসবকে কেন্দ্র করে মাস ব্যাপী মেলা চলত। মেলায় যাত্রা, পুতুলনাচ, বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে বিভিন্ন প্রকারের পন্য নিয়ে বেচাকেনা করত। মেলায় শুধু হিন্দু ধর্মালম্বীরা নয় সকল ধর্মের, বর্ণের মানুষের মিলনমেলা হত বা এখনও হয় পরিবার পরিজন নিয়ে।

মেলার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে। উৎসবে আগত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়। তবে দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাটিন স্থাপন ও স্নানের পর পোষাক পরিধানের ঘর নির্মানের।

লোকজ সংস্কৃতির অংশ হিসাবে নানান আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে একশত পঞ্চাশ বছরের ঐতিহ্যবাহী বারুণীর উৎসব।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.