পবিত্র রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকার পর ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার। জমে উঠেছে পর্যটন শিল্পও। ঈদের পরদিন থেকেই পর্যটকদের আগমনে মুখর হয়ে উঠবে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ভ্রমণের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছে এটি এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদের আগেই হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।
কক্সবাজারের হোটেলমালিকদের তথ্যমতে, ঈদের দ্বিতীয় দিন (২২ মার্চ) থেকে পর্যটকদের ব্যাপক আগমন শুরু হবে। প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যটক আসার সম্ভাবনা। ঈদ-পরবর্তী ৮ দিনে প্রায় ৯ লাখ পর্যটকের আগমন হতে পারে। এজন্য শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস ও কটেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব স্থাপনায় দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় আরও ৫০-৬০ হাজার মানুষকে আবাসনের সুযোগ রয়েছে।
কলাতলী হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, রমজানে দেওয়া ৭০ শতাংশ ছাড় ঈদের পর কমিয়ে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারকা মানের ৩০টির বেশি হোটেলে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
পর্যটক বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে। লাইফগার্ডের সংখ্যা এখনও সীমিত। কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত মাত্র ২৭ জন লাইফগার্ড কাজ করছেন, হিমছড়ি, ইনানীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সৈকতে এখনো পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী নেই।
রমজানে বন্ধ থাকা পাঁচ শতাধিক রেস্তোরাঁ ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের তথ্যমতে, ঈদের ছুটিতে প্রায় ১০ লাখ পর্যটক আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রায় ৭০০–৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে কক্সবাজার হতে পারে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনো পর্যটন সম্পদের বড় অংশ অব্যবহৃত দক্ষ জনবল ও সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি পরিবেশবান্ধব উন্নয়নই হতে পারে টেকসই সমাধান।
রমজানের স্থবিরতা কাটিয়ে ঈদকে কেন্দ্র করে আবারও জেগে উঠছে কক্সবাজার। পর্যটকের ঢল, ব্যবসার চাঙ্গাভাব এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে নতুন আশার আলো দেখছে দেশের পর্যটন খাত। তবে এই গতি ধরে রাখতে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবস্থাপনা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









