ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পাহাড়, হ্রদ আর মেঘের অপূর্ব মিলনে গড়া রাঙামাটি পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসছেন এই পার্বত্য জেলায়, ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় পর্যটন খাত।
সোমবার (২৩ মার্চ) পর্যটকদের আগমন বাড়তে থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের অলিগলি, দর্শনীয় স্থান ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দেখা যায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, পাহাড়ঘেরা পরিবেশ এবং শান্ত জলরাশির জন্য পরিচিত কাপ্তাই হ্রদ এবারও ভ্রমণপ্রেমীদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতুতে সকাল থেকে ভিড় লেগেই আছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত পর্যটকরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা প্রকৃতির নিস্তব্ধতায় ডুবে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোটে ভ্রমণ করে হ্রদের বুক চিরে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা দিচ্ছে ভিন্নমাত্রার আনন্দ।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হোসাইন জানান, পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে তাদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ঈদের ছুটিতে তাই পরিবারসহ রাঙামাটি ভ্রমণে এসে তারা বেশ আনন্দ উপভোগ করছেন।
রাঙামাটি পর্যটন নৌযান চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ বি এম সালাহ উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটক বাড়ায় দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে এখন স্বস্তিতে রয়েছেন তারা। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী বোট ভাড়া হচ্ছে, যা তাদের আয় বাড়াতে সহায়তা করছে।
শহরের আরেক জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র পলওয়েল পার্কেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। লাভ পয়েন্ট, কায়াকিং, মিনি ঝুলন্ত সেতু এবং হ্রদের পাড়ে বসে সময় কাটানোর সুযোগ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
এদিকে, শুধু শহরেই নয় জেলার অন্যতম আকর্ষণ সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে। পাহাড় আর মেঘের মেলবন্ধনে গড়া এই নয়নাভিরাম স্থানে কটেজ ও রিসোর্টগুলো প্রায় শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সভাপতি সুপর্ন দেব বর্মন জানান, কয়েক হাজার পর্যটকের আগমনে সাজেক এখন উৎসবমুখর।
পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। শহরের অধিকাংশ হোটেল ও মোটেলে বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে, যা আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। নিয়মিত টহল ও নজরদারির ফলে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রাঙামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক উইলিয়াম ত্রিপুরা বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং জেলার সব পর্যটন কেন্দ্রে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি পর্যটক ঝুলন্ত সেতু পরিদর্শন করছেন এবং মোটেল ও কটেজগুলো প্রায় শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, ঈদের এই ছুটিতে পর্যটকদের ঢলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাঙামাটির পর্যটন শিল্প, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









