নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উপলক্ষে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানে ১১শ পুলিশ সদস্য কাজ করবে। আজ থেকেই তারা মাঠে কাজ শুরু করবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসবের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে একথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আনসার সদস্যরা সেখানে সহায়তা করবেন। পাশাপাশি এখানে যেন ডুবে কেউ হতাহত না হয় সেটা নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশ কাজ করবে।
তিনি আরো বলেন, আমি সকলের সাথে মিটিং করেছি। এখানে পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থাসহ যা যা প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকলের সাথে সমন্বয় করে আমরা সুন্দর ভাবে কাজ করবো।
বন্দর থানার ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফউদ্দিন জানান, পুলিশ, আনসার ও র্যাবের সহস্রাধিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নদীতে নৌ-পুলিশ এবং সড়কে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ১৮টি স্নানঘাট সংস্কার, নদের কচুরিপানা অপসারণ এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির জন্য ৪৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের কাপড় পরিবর্তনের জন্য বিশেষ কক্ষ ও একশটি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে বেইলি ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার গুজবে পদদলিত হয়ে ১০ তীর্থ যাত্রীর মৃত্যু হয়। এ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে এবার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবার স্নান শুরু হবে বুধবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে। শেষ হবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে। নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ঐতিহাসিক লাঙ্গলবন্দে আদি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। পাপমুক্তির আশায় দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থীর পদচারণায় ইতোমধ্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র তীর।
লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে পুণ্যার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা থেকে কয়েক হাজার বিদেশি পুণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্রের এই পবিত্র সলিলে অবগাহন করতে ইতোমধ্যে লাঙ্গলবন্দে পৌঁছেছেন। স্নান উপলক্ষে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলা, যা উৎসবের জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এছাড়া সাধু সন্তের ভাব সংগীতে মুখরিত হয়ে উঠেছে তীর্থ স্থান লাঙ্গলবন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









