শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

টেকনাফ সমুদ্র  সৈকত ও জিরোপয়েন্ট  পর্যটকে ঠাসা

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:০২ এএম

আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:০২ এএম

টেকনাফ সমুদ্র  সৈকত ও জিরোপয়েন্ট  পর্যটকে ঠাসা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পর টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ও জিরোপয়েন্ট ছিল ঈদের চতুর্থ  দিনে ও পর্যটকে ঠাসা।

মঙ্গলবার  (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর ছিল পুরো সৈকতের একাধিক স্পট ও শাহপরীর দ্বীপের জিরো পয়েন্ট। 

স্থানীয়রা জানায়, ঈদের ছুটিতে টানা কয়েকদিন ধরে পর্যটকের আগমন ক্রমাগত বাড়তে থাকলে ও তৃতীয় এবং চতুর্থ ছিল পুরো বীচ পর্যটকে ঠাসা।   সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভিড় সামলাতে হিমশিম  হচ্ছে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং  টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনকে। পর্যটকদের ভিড়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।এতে আনন্দে উদ্বেলিত স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।পর্যটকের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় নারী, পুরুষ ও শিশুরা ছুটছেন দলবেঁধে। ফলে   সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ও শাহপরীর দ্বীপের জিরো পয়েন্ট লোকেলোকারণ্য হয়েছে। 

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা আজিজিয়া ট্রাভেল এজেন্সির সত্বাধিকারী আতিকুর রহমান  জানান, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উপর দিয়ে  নির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে খোলা জীপে করে হিমছড়ি, দরিয়ানগর,রেজুব্রীজ,মারমেইড রিসোর্ট,  ইনানী, পাটোয়ারটেক, শামলাপুর, জাহাজপুরা, বাহারছড়া,টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ও শাহপরীরদ্বীপ জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের একেক স্থানের সৌন্দর্যের সাথে অন্যস্থানের সৌন্দর্যের মধ্য ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট মানে   নতুন আকর্ষণ। যেখান থেকে সূর্যোদয় - সূর্যাস্ত দেখা যায়।আর পুরো মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাপার্শে সুউচ্চ পাহাড় আর ডানপাশে বিশাল বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা এবং সমুদ্রের গর্জন এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক অরিন্দম সুন্দর যে কাউকে মুগ্ধ করবে।লক্ষ্য ছিল শেষ গন্তব্য টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের জিরো পয়েন্ট। সেখানকার  পরিবেশ খুব সুন্দর, তবে আজ মানুষের ভিড় অনেক বেশি। তবুও সবচেয়ে বেশী আনন্দটা শেষ বিকালে উপভোগ করেছি আমরা সকলে। প্রকৃতিকে কাছে থেকে উপভোগের মজাইটা যেন ছিল অন্যরকম।

আরেক পর্যটক ইমরান হোসেন তিনি এসেছেন কিশোর গঞ্জ থেকে,সমুদ্র, পাহাড় ও সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি, ইনানী পাথুরে বীচ,হিমছড়ির ঝর্ণা,দরিয়া নগরের   পর্যটন স্পট ও জিরোপয়েন্ট দেখে তিনি ও তার সহকর্মীদের বিচিত্র অনুভূতি ছিল   ।তারা একসাথে বন্ধুবান্ধবী মিলে ১৮ জন ছাদখোলাদ্বিতল বাসে চড়ে একসাথে পাহাড় ও সমুদ্র দর্শন করেছে।শেষমেশ বাস দাঁড়িয়ে যায় জিরো পয়েন্টে। তখন বিকেল চারটে বাজে।তখন একসাথে খৈল্লুড়ে মেতে উঠে সবাই। তারা বলেন কক্সবাজার আর ‘টেকনাফের সৌন্দর্যে ভিন্নতা আছে।এর পর সন্ধ্যা নেমে এলে সমুদ্রের রূপ,  আচরণে পরিবর্তন আসে।এ এক অন্যরকম অনুভূতি।

কুষ্টিয়া থেকে আসেন কলামিষ্ট, কবি সাহ্যিতিক নীলিমা চৌধুরী তিনি বলেন, এত ভিড়ের মধ্যেও সমুদ্রের কাছে আসলে মনটা ভালো হয়ে যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক মনে হয়েছে।’তিনি আরো বলেন, সত্যিকার অর্থে প্রকৃতির বিশালতা দেখে আমি অভিভূত।

নারায়নগঞ্জ থেকে এসেছেন জোবাইর নামের আরেকজন।তিনি  বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে এসেছি। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর সাগরের ঢেউ মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দিচ্ছে। যদিও আজ পর্যটকের ভিড় অনেক বেশি, তবুও সবার সঙ্গে এই আনন্দমুখর পরিবেশ ভাগাভাগি করতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।’

সৈকতে চটপটি দোকানদার মো. সেলিম নেওয়াজ বলেন, ‘এ সময়ে পর্যটক বেশি থাকায় বিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। আয়ও আগের চেয়ে বেড়েছে।’

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সৈকত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল জোরদার রয়েছে। পাশাপাশি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম  বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন।সন্ধ্যার পর পুলিশ, বিজিবি ও কোষ্টগার্ড থাকেন জিরো পয়েন্ট থেকে ইনানী পর্যন্ত। সেনা বাহিনীর টহল ও জোরদার করা হয়েছে। যাতে  নিরাপদে নির্বিঘ্নে  ভ্রমণপিপাসুরা যাতায়াত করতে পারে।তাই টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ও জিরোপয়েন্ট দেখার আকর্ষণ বাড়ছে পর্যটকদের কাছে।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.