দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় গোপালগঞ্জেও পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।
দিবসটি পালন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
দিনের শুরুতেই সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। একই সঙ্গে শহিদদের স্মরণে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
পরে সকাল ৬টায় গোপালগঞ্জ ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন ৭১-এর বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
প্রথমে জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ উজ-জামান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুল্লাহ জেলা পুলিশের সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গোপালগঞ্জ জেলা কমান্ড, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জেলা বিএনপি, গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের স্মরণ করেন।
সকাল ৮টায় গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আনুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এতে সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলা সংলগ্ন ৭১-এর বধ্যভূমিতে পুনরায় পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল পৌনে ১১টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়, যা ছিল দিবসটির অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।
দুপুরে যোহরের নামাজের পর জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনায় গোপালগঞ্জ কোর্ট মসজিদ, জেলা মডেল মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় এই আয়োজনের মাধ্যমে সকল ধর্মের মানুষ দেশের কল্যাণ কামনায় অংশ নেন।
দিবসটি উপলক্ষে জেলার হাসপাতাল, কারাগার, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, ডে-কেয়ার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাশাপাশি জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন মিলনায়তন ও উন্মুক্ত স্থানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া শিশুদের আনন্দ দিতে জেলার সকল সরকারি ও বেসরকারি শিশু পার্ক বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বিকেলে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা তরুণদের মধ্যে উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে তোলে।
এদিকে জেলার অন্যান্য উপজেলা সদরগুলোতেও অনুরূপ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









