বাগেরহাটের শরণখোলায় আলোচিত কিশোরী ফাতেমা আক্তার ওরফে রিয়া মনি (১৫) হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামীর মধ্যে একজন এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথাও আদালতে স্বীকার করেছেন। আসামীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মাদক বেচাকেনা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে শরণখোলা থানা মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিহতের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের মাসুম বিল্লাহ হাওলাদারের ছেলে ও রায়েন্দা বাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রুবেল (৩৫), রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা গ্রামের মৃত আওয়াল সরদারের ছেলে মিজানুর রহমান (২৩) এবং উত্তর রাজাপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে কসাই তুহিন (২১)।
এদের মধ্যে আসামী মিজানুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
ওসি শামিনুল হক জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। আলামত হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আরও তথ্য উদঘাটনে আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের অঙ্গীকার করে ওসি আরও জানিয়েছেন, কিশোরীর মৃত্যুর নেপথ্যে মাদক এবং অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কের প্রমাণ রয়েছে।
২৪ মার্চ সকালে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামের একটি মসজিদের কবরস্থানের পাশের রাস্তা থেকে কিশোরী ফাতেমা আক্তার ওরফে রিয়া মনির (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আলী আজিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫–৬ জনকে আসামী করে শরণখোলায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









