শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় ফিলিং স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভে নেমেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে শহরের মনোহর মোড়ে অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ বিক্ষোভে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনের পর দিন তেল না পেয়ে এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। শনিবার রাতে তেলের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় শতাধিক কৃষক একত্রিত হয়ে ফিলিং স্টেশন ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে স্টেশনের রিজার্ভে থাকা তেল যাচাই করে লাইনে থাকা প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ৫ লিটার করে তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সাময়িকভাবে উত্তেজনা প্রশমিত হলেও ক্ষোভের আগুন নিভেনি বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন ও ডিলার পয়েন্টে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও অল্প পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও একেবারেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে কৃষি, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিশেষ করে বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সময়েও তেল না পাওয়ায় জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
এদিকে তেলের গাড়ি আসার খবর পেলেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও কৃষকরা পাম্পে ছুটে আসছেন। এতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
বিক্ষোভরত কৃষকরা অভিযোগ করেন, কোথাও নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তেল পাচার হয়ে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দ্রুত এই সংকট নিরসনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাফিস এলাহি বলেন, ‘খোলা তেল বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ কৃষকদের তেল দিতে প্রথমে অনীহা প্রকাশ করে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রিজার্ভ পরীক্ষা করে সবার জন্য সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং কৃষি উৎপাদনে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









