লোকজ সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য পালাকার ও লোকসংগীতশিল্পী ইসলাম উদ্দিন পালাকারকে নিজ জেলায় সংবর্ধনা দিয়েছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক রেজাউল হাবীব রেজাসহ অন্যান্য বক্তাদের আলোচনায় ইসলাম উদ্দিন পালাকারের সংগ্রামী জীবন ও লোকজ সংস্কৃতিতে তার অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
এ বছর নাট্যকলা বিভাগে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এ সম্মাননা পেয়েছেন ইসলাম উদ্দিন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে একুশে পদক গ্রহণ করেন তিনি।
সাংবাদিক ও গবেষক আমিনুল হক সাদীর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক মো. ফারুকুজ্জামান ফারুকের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মু. আ. লতিফ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কিশোরগঞ্জ জেলা ও উপজেলা শাখার সদস্যসহ জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ।
ইসলাম উদ্দিন পালাকার বলেন, “আমাকে খুঁজে বের করে একুশে পদকে ভূষিত করায় আমি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। তবে বাউল শিল্পীরা এর সমালোচনা করলেও তারা জানে না যে, পালাগান আর বাউল গান এক নয়; দুটির জগত আলাদা।”
জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করা এ কৃতি শিল্পী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দেশীয় সংস্কৃতির মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন বিদেশের মাটিতেও। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে পালাগান পরিবেশন করেন। ফ্রান্স ও ভারতেও মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি প্রশিক্ষক ছিলেন। সিনেমায়ও গান করেছেন। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে ‘দেওড়া’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এটি পরিবেশনের পর তিনি নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
ইসলাম উদ্দিনের পরিবেশিত পালাগানের মধ্যে রয়েছে—‘কমলা রাণীর সাগর দিঘি’, ‘জাহাঙ্গীর বাদলা’, ‘মতিলাল’, ‘রূপকুমার’, ‘উথুলা সুন্দরী’, ‘কাকাধরের খেলা’, ‘আমির সাধু’, ‘সুন্দর মতি’, ‘রাম বিরাম’, ‘ফিরোজ খাঁ’সহ আরও অনেক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









