জেল হাজতে আটক রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের তিন শ্রমিক নিঃশর্ত মুক্তি পেয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালত তিন ট্যাংকলরি শ্রমিক—লরি ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণ ও হেলপার ইশতিয়াক হাসান রিফাতকে নিঃশর্ত মুক্তি দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান আতু। তিনি বলেন, নীলফামারী জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অযৌক্তিকভাবে জেল দিয়েছিল। সেই ট্যাংকলরির তিন শ্রমিক এখন নিঃশর্ত মুক্তি পেয়েছেন। পরে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের পার্বতীপুর প্রধান কার্যালয়ে তিন শ্রমিককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৯ মার্চ জেল হাজতে আটক শ্রমিকদের মুক্তির আশ্বাসে ১২ ঘণ্টা পর রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয়।
পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদ হুসাইন রাজু এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।
পরে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। রাত ৮টার দিকে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে নীলফামারী জেলা শহরের জেল রোড এলাকায় তেলবাহী লরিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। গাড়ির কেবিন খুলে চালক শ্রী কৃষ্ণ এবং তার সহকারী (হেলপার) ইশতিয়াক ওরফে রিফাত গাড়ি মেরামতের কাজ করছিলেন।
এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিয়াজ ভূঁইয়া পথ দিয়ে যাওয়ার সময় লরি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরি তল্লাশি করে কেবিনে থাকা দুটি জারকিনে (ক্যান) মোট ১৩ লিটার (১০ লিটার পেট্রোল ও ৩ লিটার ডিজেল) জ্বালানি তেল পান।
১৩ লিটার তেল অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগে ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণ এবং চালকের সহকারী রিফাতকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও তিনজনকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









