বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাই, আবার গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাই, আবার গ্রেপ্তার

যশোরের কেশবপুর উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামে আসামি গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে বাধা দিয়ে সংঘবদ্ধ গ্রামবাসী এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ তিন সদস্য আহত হন। তবে নাটকীয় অভিযানে কয়েক ঘণ্টা পরই ওই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসমত আলীর নেতৃত্বে একটি দল বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হিজলডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল বহু মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা। অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করতে সক্ষম হয়।

কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সূত্র বলছে, গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পরই এলাকায় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা দেওয়া হয় যেখানে দাবি করা হয়, পুলিশ ওই আসামিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত শতাধিক গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়।

হঠাৎ এই আক্রমণে পুলিশের সদস্যরা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সংঘর্ষে এসআই আসমত আলী (৫৪), কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও হাবিবুল্লাহ (৩০) আহত হন। এ সময় কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাকে দ্রুত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্য দুই সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

আহত কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি আসামিকে ধরে রাখার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তার ওপর হামলা চালায়। তাকে বুকে আঘাত করা হয় এবং হাতের একটি আঙুলেও গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে জনতার চাপের মুখে তার কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো পরিস্থিতি ছিল পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর মসজিদের মাইকিং করে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়। এতে করে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

তিনি আরও জানান, জাহাঙ্গীর হোসেন তিনটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন। তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়েছে।

তবে ঘটনার এখানেই ইতি নয়। পুলিশের একাধিক টিম অভিযান জোরদার করে এবং অবশেষে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পুনরায় জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টিআর

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.