সুনামগঞ্জে বোরো ফসল রক্ষার জন্য হাওর রক্ষা বাঁধগুলোর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ১২টি উপজেলার শতশত হেক্টর ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হওয়ার পথে। তবে জেলার কোনো কোনো স্থানে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলেও ঠিকমতো পানি নামছে না বলে কৃষকদের অভিযোগ। অসহায় হয়ে চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের কাঁচা-পাকা ধান। এ অবস্থায় কোথাও কোথাও নিরুপায় কৃষকেরা বাঁধ কেটে পানি বের করার চেষ্টাও করছেন। এ নিয়ে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৃষকদের মুখোমুখি অবস্থানও তৈরি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জলাবদ্ধতার কারণে জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
শাল্লা উপজেলায় এ বছর মোট ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত রয়েছে ৫৫ হেক্টর ফসলি জমি এবং অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে ২৮৫ হেক্টর জমি। উপজেলার ৪টি হাওরে জলাবদ্ধতায় কৃষকদের এসব ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে শাল্লা উপজেলার ভান্ডাবিল হাওর উপপ্রকল্পের হরিনগর ও কান্দখলার বাঁধ, কান্দিগাঁও ও চাপ্টার হাওরের বাঁধ এবং ছায়ার হাওরের মাউতি ও কুশ্যাইল দাইড় হাওরের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং করা হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে।
জেলার হাওরে ৯ হাজার ২৬১ হেক্টর জমির মধ্যে অন্তত ৫০০ একর জমি এখন জলাবদ্ধতার কবলে। বিশেষ করে সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইছাগরি, হরিপুর, কলাউরাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকেরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শান্তিগঞ্জের আস্তমা গ্রামের পাশে মহাশিং নদীর নিকট উথারিয়া বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে থাকা তিনটি পাইপ পানি সরাতে যথেষ্ট নয়। গত বছর তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী একটি স্লুইসগেট নির্মাণের নির্দেশ দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
একই চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার জোয়ালভাঙা হাওর এবং ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার হাওরগুলোতে। মধ্যনগর ও ধর্মপাশার ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ২৯৫ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে, যার বড় অংশই টগার হাওরে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় অনেক জায়গায় স্লুইসগেট নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও স্লুইসগেট প্রয়োজন।”
হাওর গবেষক ও হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, “২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অনেক জায়গায় অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণই এই সংকটের মূল কারণ।”
একইভাবে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, “হাওরকে বাঁধ দিয়ে পুকুর বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এর স্থায়ী সমাধান না করলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









