কক্সবাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে হাম। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর। এ ঘটনায় জেলায় হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোর ও সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে স্থাপিত বিশেষ হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশু দুজনের মধ্যে একজন রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হকের সাত মাস বয়সী মেয়ে রৌশনী। অপরজন মহেশখালীর ছোট মহেশখালী এলাকার নাসিরের নয় মাস বয়সী মেয়ে জেসিন।
এর আগে একই উপজেলার সাত মাস বয়সী হিরা মনি নামের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়।
এছাড়া আরো একটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও তার পরিচয় ও সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে মোট চার শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি এখন নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহত রৌশনীর মা মরিয়ম বেগম জানান, তার জমজ দুই মেয়ে। হঠাৎ জ্বর ও সর্দি দেখা দিলে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ওষুধ চললেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঈদের পরদিন থেকে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে, অন্য সন্তানটিও এখনো জ্বরে ভুগছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই দেরিতে হাসপাতালে আসায় জটিলতা বাড়ছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও বিশেষ নার্সিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ইউনিটে ৪২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালে আরও ৫ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা ৪৭, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রকাশ করছে। মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করতে পারলে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









