সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়ক বরাবরই দুর্ঘটনাপ্রবণ। দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মুলিবাড়ীতে নির্মাণ করা হয়েছে ট্রমা সেন্টার।
২০২১ সালে এটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। তবে কবে নাগাদ এই ট্রমা সেন্টারটি চালু হবে তা জানাতে পারছেন না সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন নুরুল আমীন। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। চুরি হয়ে গেছে ট্রান্সফরমাসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি। রাত হলেই চলে এখানে অবৈধ কর্মকান্ড।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, জনবল ও প্রয়োজনীয় মেডিসিনের অভাবে সেন্টারটি চালু করা যায়নি। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় এটি। এই সেন্টারে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের জন্য ডরমিটরি বিল্ডিং, আধুনিকমানের অপারেশন থিয়েটার রুমসহ দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সর্বাধুনিক চিকিৎসার উপযোগী স্থাপনা রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ স্থাপনাটি সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে অনেক আগেই। অথচ নানা কারণে সেবাদান চালু করা যায়নি আজও।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, জনবল ও প্রয়োজনীয় মেডিসিনের প্রয়োজনীয় চাহিদা মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার পাঠানো হয়েছে, পেলেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা যাবে। এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চলছে। ব্যবহার না থাকায় ট্রমা সেন্টারের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, ভবনের মালামাল চুরি হচ্ছে। কিছু ভবন খালি পড়ে থাকায় সেখানে মাদকের আসর বসাচ্ছে মাদকসেবীরা।
ট্রমা সেন্টারের নৈশ প্রহরী আমিরুল বলেন, “গত ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত আমার হাত-পা ও চোখ বেধেঁ প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙ্গে ট্রান্সফরমারের তামা নিয়ে যায়। এর ঠিক এক মাস পর আবারও চুরি করতে আসলে আমরা একজনকে ধরে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে খবর দেই, পরে পুলিশ এসে ঐ ব্যক্তিকে নিয়ে যায়। এ ঘটনার তিন দিন পর ঐ ব্যক্তি আমাকে ও আমার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেয়। এখন বর্তমানে প্রায় রাতেই কে বা কাহারা আমাকে রাস্তা উপর থেকে পাথর দিয়ে ঢেলায়। বর্তমানে আমি খুব আশঙ্কার মধ্যে আছি।”
সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, “ভবন নির্মাণ শেষে প্রায় পাঁচ বছর আগেই স্বাস্থ্য বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ট্রমা সেন্টারটি চালু না হওয়ায় ভবন অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, ভবনের মালামাল চুরি হচ্ছে বলে শুনেছি।”
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, “ট্রমা সেন্টারটি বর্তমানে চালুর বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার জন্য জনবল ও প্রয়োজনীয় মেডিসিনের প্রয়োজনীয় চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, পেলেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা যাবে। তবে কবে নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি চালু হবে, তা এখন বলা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না থাকায় ট্রমা সেন্টারের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, ভবনের মালামাল চুরি হচ্ছে। নিরাপত্তা প্রহরী থাকার পরও রক্ষা করা যাচ্ছে না মূল্যবান যন্ত্রপাতি।”
উল্লেখ্য যে, সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়ক বরাবরই দুর্ঘটনাপ্রবণ। সেতুর পশ্চিমে প্রায় ৪০ কিমি দূরে নাটোর জেলার বনপাড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার উত্তর সীমানায়ও প্রায় ৪০ কিমি চান্দাইকোনা এবং দক্ষিণের সীমানা ৬০ কি.মি. শাহজাদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মহাসড়ক সংলগ্ন মুলিবাড়ীতে ২০১৮ সালে দেড় বিঘা জায়গার ওপর নির্মাণকাজ শুরু হয় ট্রমা সেন্টারের। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। বাস্তবায়ন করে সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)। ২০২১ সালের শুরুর দিকেই নির্মাণকাজ শেষে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ট্রমা সেন্টারটি হস্তান্তর করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টার নির্মাণ অনেকটা অর্থহীন হয়ে পড়ে আছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









