বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বানারীপাড়া পৌরসভার টিএনটি মোড় সংলগ্ন এলাকায় মো. মিন্টু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে তাকে হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের রাজ্জাকপুর এলাকার বাসিন্দা মিন্টুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার তাকে আটক করেন রিয়াজ মৃধা ও তার সহযোগীরা। পরে তাকে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে তার পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ওই নির্যাতন বন্ধ করার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ভুক্তভোগীকে এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এ ধরনের ঘটনাকে গুরুতর আইনবিরোধী হিসেবে দেখছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি কর্মী বলেন, মিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা উচিত ছিল। কোনো রাজনৈতিক নেতার এভাবে প্রকাশ্যে কাউকে নির্যাতন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাউকে মারধর করা হলে সে অভিযোগ করবে, আপনি বলার কে? এ বিষয়ে আরও প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। মিন্টু নামে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ পুলিশের তালিকায় রয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









