গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের নরুন (সাতনপাড়া) গ্রামের একটি মসজিদের ইমাম অহিদুল আলম-যিনি ইমামতির পাশাপাশি গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, এক রাতের আগুনে হারালেন তার বহু বছরের গড়ে তোলা স্বপ্ন।
জানা গেছে, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও প্রশিক্ষণ নিয়ে ছোট পরিসরে গরুর খামার শুরু করেছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে কঠোর পরিশ্রম আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই খামারে গরুর সংখ্যা দাঁড়ায় সাতটিতে। কিন্তু সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে এক অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই সবকিছু ভস্মীভূত হয়ে যায়।
প্রতিদিনের মতো রাত প্রায় ১১টার দিকে গরুগুলোকে খাবার দিয়ে ঘুমাতে যান অহিদুল আলম। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে প্রতিবেশীর ডাক শুনে বাইরে বের হয়ে দেখেন, গোয়ালঘরে আগুন জ্বলছে। তিনি চিৎকার করে আশপাশের মানুষজনকে ডাকেন এবং দ্রুত খবর দেন খামারের মালিককে।
পরে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে গোয়ালে থাকা পাঁচটি গরু পুড়ে মারা যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল জানান, খামারটিতে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না, ফলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, “গোয়ালের মাচায় রাখা লাকড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক-গরুগুলো রশি দিয়ে বাঁধা ছিল, তাই বের হতে পারেনি।”
প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়ালে রাখা মশার কয়েলটি অক্ষত ছিল। তারা জানান, মাচায় থাকা শুকনো কাঠ থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত গোটা ঘর গ্রাস করে।
ভুক্তভোগী অহিদুল আলম বলেন, “ইমামতির পাশাপাশি ধার-দেনা করে এই খামার গড়ে তুলেছিলাম। এই খামারের আয়েই আমার সংসার চলত। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









