বরিশালের উজিরপুর উপজেলার স্কুলে যাওয়া-আসার পথে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি ওই ছাত্রী ও তার মাকে পুড়িয়ে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় পুরো পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ভুক্তভোগী কংকা আক্তার ওটরা হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। টানা হয়রানি ও প্রাণনাশের ভয়ে সে বর্তমানে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ওটরা বাজার সংলগ্ন হাওলাদার বাড়িতে কথা হলে কংকার মা জিনিয়া ইয়াসমিন মনি জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। তিনি তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।
তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের প্রভাবশালীরা পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছে। একাধিকবার আমাদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, আমাদের পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করছে তারা, বলেন তিনি।
কংকা আক্তার জানায়, জমিজমা নিয়ে একই বাড়ির হাসান লাল মিয়ার সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে। আমি যখনই স্কুলে যাই, পথে তার লোকজন আমাকে বাজে ভাষায় গালাগালি করে, ভয় দেখায়। অনেক সময় অনুসরণও করে। এখন শুনছি আমাদের পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাই আমি আর স্কুলে যেতে পারছি না।
তার ভাষায়, আমি শুধু নিরাপদে পড়াশোনা করতে চাই, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।
জিনিয়া ইয়াসমিন দাবি করেন, তার বাবা জীবিত অবস্থায় কাস্টমস কর্মকর্তা ছিলেন। সে সময় হাসান লাল মিয়া তাদের বাড়ি ও জমিজমা দেখাশোনা করতেন। পরবর্তীতে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে তিনি পাশের বাসার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেন।
আমি মেয়েকে নিয়ে এখানে থাকার পর থেকেই তাদের সমস্যা শুরু হয়। তারা প্রায়ই বাড়িতে এসে ভয়ভীতি দেখায়, মারধরের চেষ্টা করে। আমার মেয়ের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, বলেন তিনি।
অভিযুক্ত হাসান লাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের মদদে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর কোনো সত্যতা নেই।
এ বিষয়ে উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে এবং আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছি। যদি কাউকে হয়রানি, হুমকি বা প্রাণনাশের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মেয়েটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং সমাজের জন্যও উদ্বেগজনক। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









