বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ধান-চালের বাজারে ধস, সংকটে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

ধান-চালের বাজারে ধস, সংকটে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ধান ও চালের বাজারে হঠাৎ দরপতনে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে ধানের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকেরা উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। একইসঙ্গে চালের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরাও। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রতিমণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে চালের বাজারে প্রতিকেজিতে ২ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত দর কমেছে।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গাঙ্গুপাড়া ও দামনাশ ধানের হাট ঘুরে দেখা যায়, ব্রি-২৮ ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০ থেকে ১৪০০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল প্রায় ১৬০০ টাকা। জিরাশাইল ধান ১৯০০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৬০০ টাকায়। ব্রি-৭৫ ধান ১৩৫০ টাকা থেকে কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ টাকায়। একইভাবে স্বর্ণা-৫ ধান ১২০০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০০০ টাকায়।

দামনাশ হাটের আড়তদার শহিদুল ইসলাম জানান, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা কম আসছেন। এছাড়া নতুন ধান বাজারে আসার সম্ভাবনায় সরবরাহ বেড়ে গেছে, যা দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে। 

হাটে ধান নিয়ে আসা কৃষক ওহিদুল ইসলাম বলেন, “ঈদের পর দাম বাড়বে ভেবে ধান ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন উল্টো দাম আরও কমে গেছে। এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫০০ টাকা, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ১২০০ টাকায়। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট ধান বাজারের আড়তদার এমরান আলী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাইরের জেলার ক্রেতা কমে গিয়ে বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে চাল ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের সংকটে রয়েছেন। বাজারে চালের দাম কমে যাওয়ায় তারা ধান বেশি দামে কিনতে পারছেন না। রাজশাহীর বিভিন্ন চালকল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদেশ থেকে চাল আমদানি বেশি থাকায় দেশি চালের চাহিদা কমেছে। পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার চালকল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “গত বছর এই সময়ে ৫০ কেজির এক বস্তা আঠাশ চাল ৩৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩১০০ টাকায়। এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।” আরেক ব্যবসায়ী হেলাল আলী জানান, “চালের দাম কম থাকায় ধানও কম দামে কিনতে হচ্ছে। এতে প্রতি লটে লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

রাজশাহী মহানগরীর সাহেবাজার, বিসিক, পুঠিয়ার বাণেশ্বর ও চারঘাটের চালের মোকামগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে এক মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে স্বর্ণা-৫ চাল প্রতি কেজি ৪২-৪৩ টাকা, জিরাশাইল ৬৭-৬৮ টাকা, কাটারীভোগ ৭৪-৭৬ টাকা এবং আঠাশ ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মাস আগেও এসব চালের দাম ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি হওয়াই বাজারে এই দরপতনের অন্যতম কারণ। রাজশাহী জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, “ধান ও চালের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারকে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। কৃষক ও ব্যবসায়ী দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় ন্যূনতম লাভ নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।” তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষক ও চালকল শিল্প উভয়ই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.