ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশায় নিজের পরিচয় পর্যন্ত বদলে ফেলেছিলেন ফিরোজা। দীর্ঘ সম্পর্ক, অগাধ বিশ্বাস আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সবকিছুর বিনিময়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন এক কঠিন পথ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভালোবাসাই তার জীবনে বয়ে এনেছে প্রতারণা, বেদনা আর অনিশ্চয়তার গভীর অন্ধকার।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ফিরোজা (পূর্বনাম ফিরোজ) জানান, বরিশাল নগরীর সাগরদী এলাকার ধান গবেষণা রোডের বাসিন্দা বিপ্লবের সঙ্গে তার প্রায় ১৭ বছরের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, একদিন তারা বৈধভাবে সংসার শুরু করবেন।
ফিরোজার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিপ্লবের বিয়ের আশ্বাসে তিনি ভারতে গিয়ে দুই দফা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হন। চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও ভালোবাসার টানে সবকিছু সহ্য করেন তিনি। তার একটাই লক্ষ্য ছিল, প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করা।
কিন্তু দেশে ফিরে সেই স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। ফিরোজা জানতে পারেন, বিপ্লব গোপনে অন্য এক নারীকে বিয়ে করেছেন। শুধু তাই নয়, তার বর্তমান স্ত্রী সন্তানসম্ভবাও। বিষয়টি জানার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
কাঁদতে কাঁদতে ফিরোজা বলেন, আমি আমার পুরো জীবনটাই তার ওপর ভরসা করে বদলে ফেলেছি। নিজের পরিচয় বদলানো সহজ বিষয় না। আমি ভেবেছিলাম, সে আমাকে গ্রহণ করবে। কিন্তু এখন আমি একা, সম্পূর্ণ নিঃস্ব।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিপ্লব বিভিন্ন সময়ে চাকরি ও ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে সেই টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে। উল্টো টাকা চাইতে গেলে তাকে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন ফিরোজা। লেনদেনের সময়কার কিছু নথিপত্র তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব বলেন, ফিরোজার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল, এটা অস্বীকার করছি না। তবে টাকার বিষয়ে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
এ ঘটনায় ফিরোজা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-মামুন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে আর্থিক লেনদেনের বিষয় জড়িত থাকায় ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভালোবাসার সম্পর্কে বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নের পাশাপাশি এটি মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ফিরোজা ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন। তার প্রত্যাশা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং সত্য প্রকাশিত হোক। তার কথায়, আমি যা হারিয়েছি, তা আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই, কেউ যেন আর এমন প্রতারণার শিকার না হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









