মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশ থেকে পার্বতীপুরে ৬ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্র মোস্তাসির রহমান মাহির (৬) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে দর্গাপাড়া ফাজিল মাদ্রাসায় পড়তো। তার রোল নম্বর ২। মাহির পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যদর্গাপাড়া গ্রামের মোমিনর রশিদের ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যদর্গাপাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পিছনে ঝোপঝাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রামবাসী অভিযুক্ত মোস্তফা মোহন (২০) কে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে।
বাবা মোমিনুর রশিদ বলেন, সামান্য পাখি দেওয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে মাহিরকে ডেকে নেয় প্রতিবেশী নুর আলমের ছেলে মোস্তফা মোহন। পাখি দেওয়ার পর কৌশলে মাহিরকে মাদ্রাসার পিছনে ঝোপঝাড়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে চড় থাপড়, গলা ধরে আছার দেয়, পরে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যাসহ জমির কাদা দিয়ে মুখে মাটি ঢুকিয়ে দেয়। সে গেল বৃহস্পতিবার রাত ১টায় পুলিশে শ্বীকারোক্তি দিয়েছে। ওইদিন মাহিরকে বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজিতে অংশ নিয়েছিল অভিযুক্ত মোস্তফা মোহন। পাখি দেয়ার কথা বলে ১৫ দিন আগে বাড়ীর গাছের বড়ই নেয় মোহন। গত বুধবার পাখি না দিয়ে পাখি ডিম দেয় মোহন। বৃহস্পতিবার বড় পাখি দেয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে ডেকে নেয় মোস্তফা মোহন। এরপর কান্নায় ভেঙে বাবা মোমিনুর রশিদ। তার দুই ছেলে বড় ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (১০) ওই মাদ্রাসা ৪ শ্রণিতে পড়ছে।
গ্রামবাসীরা জানান, অনেক খোঁজাখুঁজি পর বিকেলে স্থানীয়রা মাদ্রাসার পিছনে ঝোপঝাড়ে মাহির লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
শুক্রবার (১০) সকালে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, মাহির জ্বর নিয়ে মাদ্রাসায় আসলে তাকে দুপুরে ছুটি দেয়া হয়েছিল। মাদ্রাসার সাথেই মাহির বাড়ী।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, অভিযুক্ত মোস্তফা মোহনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









