কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা সমুদ্রসৈকতে ডিম পাড়তে এসে একাধিক মা কাছিমের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে ধলঘাটার হাঁসের চর সমুদ্রসৈকতে একাধিক মা কাছিমকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে এসব মৃত কাছিম অপসারণ করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক হুমায়ুন কবির জানান, ধলঘাটা সমুদ্রসৈকতের একটি নির্দিষ্ট স্থানে তিনি নিজে গিয়ে ১০ থেকে ১৫টি মা কাছিম মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন এবং ছবি তুলেছেন। তার ধারণা, পরিবেশ দূষণের কারণেই ডিম পাড়তে এসে কাছিমগুলো মারা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের চলমান নির্মাণকাজের ফলে সাগরে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পড়ছে। পাশাপাশি কাছিমের প্রজনন ও ডিম পাড়ার জন্য সংরক্ষিত ঝাউবাগান ও প্যারাবন ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে কাছিমের নিরাপদ প্রজননস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দূষণ ও নিরাপদ ডিম পাড়ার জায়গা না থাকায় কাছিমগুলো উপকূলে এসে মৃত্যুর মুখে পড়ছে।
এছাড়া মাতারবাড়ি সাইরার ডেইল এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন সৈকতেও একাধিক বড় আকৃতির মৃত কাছিম পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পর থেকে সাগরের পানি ক্রমেই দূষিত হচ্ছে এবং মাছের পরিমাণও কমে গেছে। একই কারণে ডিম পাড়তে উপকূলে আসা কাছিমগুলো টিকে থাকতে পারছে না বলে তারা মনে করেন।
মহেশখালী পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, “ধলঘাটা ও মাতারবাড়ী সৈকতে মা কাছিমের এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। কেন এই মৃত্যু ঘটছে তা বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করে বের করা জরুরি।
পাশাপাশি এসব এলাকা কাছিমের ডিম পাড়ার জন্য সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করে তাদের রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, ধলঘাটা ও মাতারবাড়ী সৈকতে মা কাছিমের মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাওছার/ন্যাশনাল/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









