রাজধানীর গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ টাকার জাল নোট সহ গাজীপুরের যুবলীগ নেতা ও তার দুই সহযোগী কে আটক করেছে পুলিশ।এসময় জাল টাকা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ১১/এ নম্বর বাসার সামনে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. আবু হানিফ পালোয়ান (৫০), রেজাউল শেখ (৪০) এবং আব্দুল্লাহ মজুমদার আশিক (২৪)।
আটককৃতদের মধ্যে,রেজাউল শেখ কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের প্রভাবশালী সদস্য,এবং নাগরী ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি। তিনি গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বাগদী গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, মিরপুর এলাকা থেকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে জাল টাকা নিয়ে গুলশানে আসেন আবু হানিফ ও আশিক। অন্যদিকে রেজাউল শেখ আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করে।
এ সময় তাদের কাছে থাকা একটি বাজারের ব্যাগ থেকে ১ হাজার টাকার ৫০টি বান্ডেলে মোট ৫০ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জাল নোট বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর আওতাধীন গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জাল নোট চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে রেজাউল শেখের নিজ এলাকা কালীগঞ্জের নাগরী এলাকা ঘুরে জানা যায়, রেজাউল শেখ অবৈধ জাল টাকার ব্যবসা করে নাগরী বাজারে একটি ১০ তলা আলিশান মার্কেট করেছেন যার নাম দিেওয়া হয়েছে নাগরী নিউ মার্কেট। গাজীপুর মহানগরীর ৪১ নং ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত পুবাইল থানার পাশে ৪ ইউনিটের একটি ৭ তলা বাড়ি, ৪০ নং ওয়ার্ডের কুদাব বাগিচা এলাকায় ১০ কাঠার প্লট এর উপর বাড়ি।পূবাইং ছিকুলিয়া এলাকায় এলাকায় প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জমি সহ প্রায় শতাধিক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগরীর একাধিক ব্যক্তি জানান এক সময় তার বাবা সুরুজ মিয়া গ্রামে গ্রামে ঘুরে ধান ক্রয় করে,সেই ধান বাজারে বিক্রি করে অতি কষ্টে দিন যাপন করতেন।ছেলে রেজাউলের অবৈধ ব্যবসার টাকা দিয়ে বর্তমানে তারা শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকির ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পেত না।
রেজাউলের গ্রেপ্তারের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। সকলের প্রশ্ন একটাই অবৈধ সম্পদে একজন মানুষ এত দ্রুত কোটিপতি বনে যায় রেজাউলকে না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না।এসময় তারা যুবলীগ নেতা রেজাউলের অবৈধ সম্পদের উৎসব তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের সহযোগিতা কামনা করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









