নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে দেশের মানুষকে দুশ্চিন্তামুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার সময়োপযোগী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আসবে এবং জনগণ এই খাত নিয়ে আর উদ্বিগ্ন থাকবে না।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্রের ভাসমান গ্যাস টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসপিএম প্রকল্প-সহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বহু মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে কিছু প্রকল্প এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে এসপিএম প্রকল্পটি কমিশনিং সম্পন্ন হলেও ঠিকাদার নিয়োগ জটিলতার কারণে কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তিনি জানান, এই জটিলতা নিরসনে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি অবকাঠামো শক্তিশালী করতে শুধু উৎপাদন নয়, সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে দুটি এফএসআরইউ-এর মাধ্যমে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা হচ্ছে, যা মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ করছে। ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় মাতারবাড়ি এলাকায় নতুন এলএনজি এবং এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ রাখার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছি। অতীতে এই সক্ষমতা ছিল সীমিত। এখন কোথায় কতটুকু সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে এবং তা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন চলছে।”
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। তবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকল্প জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান এবং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে কয়লা আমদানির প্রতিটি ধাপ সরাসরি তদারকি করছে মন্ত্রণালয়, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা।
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “আমরা যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারি, তবে সরকারের বর্তমান মেয়াদ শেষে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তি তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও বেগবান করবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









