পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় একসময়ের প্রবাহমান দুইশটিরও বেশি খাল এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে এসব খাল দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে, ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়ছে মারাত্মক প্রভাব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্বে খালের দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। অনেক খাল সম্পূর্ণ ভরাট করে সেখানে কৃষিজমি কিংবা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খালগুলোর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
এছাড়া পলি জমে নাব্যতা হারানোর কারণে অনেক খাল এখন মৃতপ্রায়। বর্ষা মৌসুম ছাড়া অধিকাংশ সময় এসব খালে পানি থাকে না। ফলে কৃষিকাজে সেচ সংকট দেখা দিচ্ছে এবং স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
খালগুলোর এমন করুণ অবস্থার কারণে এলাকায় মাছের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। একসময় যেসব খালে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে মাছের দেখা মেলে না বললেই চলে। এতে স্থানীয় জেলেদের জীবিকায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, খালগুলো শুধু পানিপ্রবাহের উৎস নয়, বরং এগুলো এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাল বিলুপ্ত হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে খালগুলো দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করতে হবে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপজেলার সচেতন মহলের মতে, এখনই উদ্যোগ না নিলে নেছারাবাদের ঐতিহ্যবাহী খালগুলো একসময় পুরোপুরি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









